মার্কিন হামলার পরই ইরানের পাল্টা আঘাত

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা অষ্টম রাতের মতো মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনীর সক্ষমতা কমানো এবং মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানোর কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে, অন্যদিকে ইরান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে।

এর জবাবে তেহরানও থেমে থাকেনি। মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে কুয়েতসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। একই সাথে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের একটি চরম ও বিপর্যয়কর জবাব দেওয়া হবে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের জেরে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন স্মারকের শর্তগুলো অমান্য করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইরানের সমঝোতা স্থগিতের সিদ্ধান্তে তাদের কিছু যায় আসে না। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নিয়ম ভঙ্গ করা এবং রুট পরিবর্তন নিয়েই নতুন করে উভয় দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি রেখেছে ইরান। সতর্কবার্তা না মেনে নির্ধারিত পথের বাইরে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করায় কয়েকটি নৌযান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত