চলতি গ্রীষ্মের তৃতীয় তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তারও বেশি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে লড়াই চালাচ্ছে স্পেন কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে দেশটির দুটি বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতেও চরম হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন থেকেই তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে শুরু করেছে। তবে এই তাপপ্রবাহ তীব্র রূপ নেবে এবং তা বেশ কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পুরো সপ্তাহ জুড়েই এই চরম গরম বজায় থাকতে পারে এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এতে প্রভাবিত হবে।
মূলত উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা অতিরিক্ত উষ্ণ, শুষ্ক ও ধুলাবালুবাহী বাতাস এবং বায়ুমণ্ডলের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এই দুর্যোগ তৈরি হয়েছে। ফলে স্পেনের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জগুলোও এই তীব্র দাবদাহের কবলে পড়বে। অনেক অঞ্চলে টানা কয়েক দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকবে।
এই অতিরিক্ত গরমের কারণে স্পেনের বয়স্ক মানুষ, হৃদরোগী এবং যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং চরম গরমের দিনগুলোতে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এমন চরম অবস্থার কারণে দেশটিতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় শুষ্ক বজ্রপাতের কারণে নতুন নতুন স্থানে আগুন লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার ৪০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা চলতি বছরের সবচেয়ে বড় দাবানল। এর পাশাপাশি আরেকটি এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়া তথ্যে আরও দেখা যায়, এই বছরের গ্রীষ্মের শুরু থেকেই স্পেনের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশ ওপরে রয়েছে। আগের বছরের রেকর্ড ভেঙে এই উচ্চ তাপমাত্রা জনজীবন ও পরিবেশকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।