বিশ্বকাপের সেরা কেন রদ্রি কেন মেসি নয়

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ শেষে যখন স্প্যানিশ লাল ফোয়ারার আলোয় ঝলমল করছে মেটলাইফ স্টেডিয়াম, তখন দলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বিশ্বমঞ্চের সেরা তারকারা। সেখানে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে লিওনেল মেসির টানা আরেকটি পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বলের মুকুট ওঠে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির মাথায়। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রির পা থেকে আসেনি কোনো গোল, এমনকি করেনটি কোনো অ্যাসিস্টও! তবে কেন এই স্বীকৃতি? কেন রদ্রি? কেনই বা মেসি নয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মাঝমাঠে রদ্রির অনবদ্য ও নিরলস পারফরম্যান্সের মধ্যে। প্রায় ২ বছর আগে ডান হাঁটুর এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার দীর্ঘ চোটের ধাক্কা সামলে মাঠে ফিরে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার। শুধু ফাইনালেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে দলের আক্রমণ ও রক্ষণভাগের সেতুবন্ধ হিসেবে দুর্দান্ত ভূমিকা পালনের পাশাপাশি শুধু ফাইনালেই তিনি অবিশ্বাস্যভাবে ১০৬টি পাশ দিয়ে তার মধ্যে ১০১টি ছিল নিখুঁত।

এ ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে সর্বমোট ৭৯০টি সফল পাশ দিয়ে তিনি ভেঙে দেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক খেলোয়াড় দ্বারা সর্বোচ্চ পাশের নিজেরই আগের রেকর্ড। উত্তর আমেরিকার এই আসরে রদ্রির ধারেকাছে থাকা অন্য পাশিং মাস্টাররা ছিলেন তারই সতীর্থ পাউ কুবার্সি (৬৬৮) এবং আইমেরিক লাপোর্তে (৬১৮)। ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে রদ্রির হাতে গোল্ডেন বল তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের মাত্র ১১তম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যালন ডি’অর জয়ের দুর্লভ ত্রিভুজ রেকর্ডে নিজের নাম লেখান এই স্প্যানিশ তারকা।

টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের : এদিকে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিতে গোল করতে না পারলেও টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের গোলমেশিন রূপ ধরে রেখেছিলেন এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় ৬-৪ গোলের ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচেও করেন জোড়া গোল। আর তাতেই এবারের আসরে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০টিতে নিয়ে যান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই অর্জনের মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পরপর দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০২২ এবং ২০২৬) গোল্ডেন বুট জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

গোল্ডেন গ্লাভস উনাই সিমোনের : স্পেনের এই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তাদের রক্ষণভাগের জমাট প্রাচীর, যার মূল প্রহরী ছিলেন গোলরক্ষক উনাই সিমোন। টুর্নামেন্টজুড়ে মাত্র একটিমাত্র গোল হজম করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক নজির গড়েছেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক। সিমোন আট ম্যাচের মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে সাতটিতেই ক্লিন শিট বজায় রেখেছেন, যা বিশ্বকাপের এক আসরে যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য সর্বোচ্চ। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলিয়ারের কাছে গোল খাওয়ার আগ পর্যন্ত টানা ৬৫০ মিনিট কোনো গোল খাননি তিনি। এর আগে এই রেকর্ডটি ইতালির ভালতের জেঙ্গার দখলে ছিল ৫১৭ মিনিটের। ফাইনালে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পাত্তাই না দিয়ে এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ সাতটি ক্লিন শিটের সুবাদে উনাই সিমোনের হাতেই উঠেছে এবারের বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’।

সেরা তরুণ পাউ কুবার্সি : স্পেনের রক্ষণভাগে সিমোনের আস্থার অপর নাম হয়ে আসরে আলো ছড়িয়েছেন ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ভরসার মান রেখে টুর্নামেন্টের আটটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন এই তরুণ তুর্কি। সতীর্থ রদ্রির ঠিক পরেই উত্তর আমেরিকার এই আসরে সর্বোচ্চ পাশের তালিকায় ৬৬৮টি সফল পাশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। শুধু পাশিংয়েই নয়, সতীর্থ মার্ক কুকুরেয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পুরো আসরে সর্বোচ্চ ৭৫০ মিনিট মাঠে থেকে আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশিক্ষণ খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ ডিফেন্ডার। ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হওয়ার বিরল কীর্তি গড়ার পাশাপাশি ডিফেন্ডার হিসেবে প্রথমবার ফিফার ‘সেরা তরুণ খেলোয়াড়’র পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন কুবার্সি। টুর্নামেন্টজুড়ে আইমেরিক লাপোর্তের সঙ্গে তার নিখুঁত বোঝাপড়া আর রক্ষণভাগের দুর্ভেদ্য দেওয়াল স্পেনকে এনে দিয়েছে কাক্সিক্ষত বিশ্বসেরার সোনালি ট্রফি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত