বরফের চাদরে আবৃত ধূসর-কালচে রঙের বিশাল এক মাছ। দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুট, ওজনে ১৫৫ কেজি! চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি মাছ বাজারে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এই বিরল দৃশ্য। প্রকা- আকৃতির ‘কৈ কোরাল’ মাছটি এক নজর দেখতে আর মুঠোফোনে ছবি তুলতে সকাল থেকেই বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবন উপকূল থেকে কাজীর দেউড়ি বাজারে আনা হয় মাছটি। সপ্তাহখানেক আগে বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রলারের জালে ধরা পড়েছিল এটি। মাছটি চট্টগ্রামে আনার গল্পটাও কম রোমাঞ্চকর নয়। বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ওজনের কারণে সাগরে জাহাজ থেকে মাছটি তোলার জন্য ক্রেন ব্যবহার করতে হয়েছিল। চট্টগ্রামে আনার পর কাজীর দেউড়ি বাজারে পিকআপ ভ্যান থেকে নামাতেই লেগেছে ১২-১৫ জন মানুষের শক্ত হাত।
বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘মাছটি কিনতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আজ শনিবার সকালে এটি কেটে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। তবে বাজার কাটতি এতটাই বেশি যে, কাটার আগেই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে ৬০ কেজি মাছ! সবমিলিয়ে মাছটি ২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
ফেসবুকে বিশাল এই মাছের ভিডিও দেখে কাজীর দেউড়িতে ছুটে এসেছেন আব্দুল হামিদ নামের এক ক্রেতা। দুই কেজি মাছের জন্য তিনি অগ্রিম ১ হাজার টাকা জমা দিয়ে বলেন, এত বড় মাছ সচরাচর দেখার সুযোগ হয় না। ব্যাংক কর্মকর্তা আজম খান আবার দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এই বিরল দৃশ্য দেখাতে। তিনি বলেন, ‘বাজারে এত বড় কৈ কোরাল উঠেছে শুনে বাচ্চাদের কৌতূহল সামলানো গেল না।’
কাজীর দেউড়ি বাজারে এমন বিশালাকৃতির মাছ নিয়ে আসার ঘটনা আনোয়ার হোসেনের জন্য নতুন নয়। কাজির দেউরিতে ‘বড় মাছের বিক্রেতা’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি আছে তার। কোথাও বড় মাছ ধরা পড়ার খবর পেলেই ছুটে যান তিনি। এর আগে ২০২২ সালে কক্সবাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ২১০ কেজি ওজনের একটি কৈ কোরাল এনেছিলেন আনোয়ার। তারও আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ১৯৫ কেজি ও ১৯০ কেজি ওজনের দুটি মাছ এই বাজারে নিয়ে আসেন তিনি।
মাছটির শারীরিক গঠন প্রসঙ্গে জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এর শরীর চ্যাপ্টা ও কিছুটা গোলাকার। পিঠ ও পেছনের পাখনা লেজের দিকে বিস্তৃত থাকায় দূর থেকে দেখলে মনে হয় তিনটি লেজ। ছোট মাথা আর শরীরজুড়ে বাদামি ছোপ, সব মিলিয়ে কৈ কোরালের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, ‘কোরাল বাংলাদেশে অত্যন্ত মূল্যবান এক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। ছবি দেখে এটি কোরাল শ্রেণির বলেই মনে হচ্ছে। সুন্দরবন এলাকায় ধরা পড়ার পর চট্টগ্রামের বাজারে আনা হয়েছে বলে জেনেছি।’