ফিরছে প্রকৃতির আদি রূপ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

কোলাহল নেই, নেই প্লাস্টিক বর্জ্যরে দূষণ কিংবা ইঞ্জিনচালিত নৌকার বিকট শব্দ ও ক্ষতিকর তেলের আস্তরণ। চারদিকে কেবলই সুনীল জলরাশি, কেয়া বনের পাতার মর্মর ধ্বনি আর সুনসান নীরবতা। পরিবেশ, প্রতিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞার সুফল মিলতে শুরু করেছে দেশের সর্বদক্ষিণের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড ‘ছেঁড়াদ্বীপ’-এ। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ধকল কাটিয়ে প্রকৃতি এখন নিজের মতো করে সেজে উঠছে, ফিরে পাচ্ছে তার আদিম রূপ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণে যে কঠোর পদক্ষেপ, তারই ইতিবাচক ফলের দেখা মিলছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, ছেঁড়াদ্বীপ মূলত একটি প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, যত্রতত্র প্লাস্টিক এবং মানুষের পায়ের চাপে দ্বীপের বিরল প্রজাতির জীবন্ত প্রবাল ও সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। বর্তমানের এই দীর্ঘ নীরবতা ও মানুষের ছোঁয়াহীন পরিবেশ বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক বাস্তু সংস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করছে।

এ ব্যাপারে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপের প্রবাল ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সরকারি সিদ্ধান্তে বর্তমানে ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, ফলে দ্বীপটি আবার তার আগের রূপ ফিরে পাচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী বলেন পরিবেশের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, ছেঁড়াদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশ ধরে রাখতে হলে শুধু মৌসুমভিত্তিক নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন ও যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন ঘাট থেকেই নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে। তারা বলছেন, এতে করে কেউ আইনি ফাঁকফোকর গলে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত