বিষধর স-স্কেলড ভাইপার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ এএম

পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র, ভয়ংকর ও বিষাক্ত সাপের মধ্যে, স-স্কেলড ভাইপার বা করাত-আঁশযুক্ত ভাইপার অন্যতম। আকারে ছোট হলেও, আক্রমণাত্মক স্বভাব এবং শক্তিশালী হেমোটক্সিক বিষের কারণে সাপের ছোবল, মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া নষ্ট করে। লম্বায় তারা ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার। বিপদে পড়লে শরীরে করাতের মতো খাঁজকাটা আঁশগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘষে, হিসহিস শব্দ তৈরি করে সতর্ক করে। একইসঙ্গে খুব দ্রুত আক্রমণে যায়। এর বিষ, রক্তনালি ধ্বংস এবং টিস্যুর মারাত্মক ক্ষয় করে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে, কামড় প্রাণঘাতী হয়। দ্রুতগতির এই সাপের বিষে স্নায়ু অবশ হয়ে আসে এবং শরীর অভ্যন্তরে রক্তপাত ঘটে। তখন কিডনি অকেজো হয়। চিকিৎসা করতে দেরি হলে, একপর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়। যে কারণে, করাত-আঁশযুক্ত ভাইপারকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সাপ হিসেবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শুকনো পাতা, বালুময় জমি কিংবা পাথুরে এলাকায় এটি এমনভাবে লুকিয়ে থাকে, মানুষ বুঝতে পারে না বিপদ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ, ভারত,

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এই সাপ দেখা যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশের গ্রামের বহু এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা বা অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায়, মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়ে। স-স্কেলড ভাইপার আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং দ্রুতগতির। সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং অ্যান্টিভেনমের সহজলভ্যতা বাড়ানো এই বিপজ্জনক সাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র। বর্ষাকালে সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত