লবণ খাবেন কতটুকু

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

ক্লাসিফাইড মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট সিএমএইচ, ঢাকা।

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। আমাদের খাবার লবণে রয়েছে সোডিয়াম এবং ক্লোরাইড। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্য স্বীকৃত মাত্রার বেশি লবণ গ্রহণ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। পক্ষান্তরে স্বল্পমাত্রার লবণ গ্রহণের ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজতর হয়। সে জন্য খাবারে লবণ গ্রহণের ব্যাপারে সচেতনতা জরুরি। বিশেষত যাদের উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা কিডনির ব্যাধি রয়েছে তাদের জন্য এ বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক লবণ গ্রহণের মাত্রা

যাদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির অসুখ রয়েছে তাদের জন্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সুপারিশ করেছে দৈনিক ১৫০০ মিলিগ্রাম। যাদের এসব ব্যাধি নেই তারা ২৫০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণ গ্রহণ করতে পারেন। এর চেয়ে বেশি নয়। এক টেবিল চামচে ২৪০০ মিলিগ্রাম লবণ থাকে। সুতরাং সারা দিনে সাকুল্যে এক টেবিল চামচের চেয়ে অনেক কম লবন খেতে হবে যারা ব্যাধিমুক্ত।

কোথায় লবণ

আমাদের খাদ্যে লবণ থাকবেই। লবণ না হলে স্বাদ হয় না। কিছু খাবারে লবণের আধিক্য রয়েছে। যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, ক্যান-জাত খাবার এবং প্যাকেট করা খাবার। অনেক সময় এসব ক্যান কিংবা কৌটার গায়ে লবণের পরিমাণ লেখা থাকে। ১০০ গ্রাম খাদ্যে যদি ০.৩ গ্রামের কম লবণ থাকে তবে আপনার জন্য ভালো। যদি ১.৫ গ্রামের বেশি লবণ থাকে তবে মনে রাখবেন লবণের আধিক্য রয়েছে যা আপনার সুস্থতার অন্তরায়।

লবণের ক্ষতিকর প্রভাব

খাদ্যে লবণের আধিক্য হলে রক্তে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। কিডনি তখন অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে ব্যর্থ হয়। রক্তনালিতে থেকে যায়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। পায়ে পানি জমে যায়। কিডনি, হৎপি-, লিভারের অসুখসহ আরও কিছু হরমোনঘটিত রোগে এমনটি হতে পারে। লবণ গ্রহণের ফলে এসব পানি শুকানো মুশকিল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধও অনেক সময় অকার্যকর হয়ে পড়ে। কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে লবণ গ্রহণে তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না। তারা লবণ সহনশীল। কিছু মানুষের সামান্য বেশি লবণ গ্রহণের ফলে নেমে আসতে পারে বিপর্যয়। এদের কিডনি অতিরিক্ত পানি আটকে রাখে, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, হৎপি-ের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। মধ্যবয়স্ক, বৃদ্ধ, মোটাসোটা মানুষদের ওপর লবণের নেতিবাচক প্রভাব বেশি।

কাঁচা লবণের বিকল্প

রক্তচাপের রোগীদের আলগা লবণ গ্রহণ না করার পরামর্শ দিলে পাল্টা প্রশ্ন করে তারা জানতে চান তাহলে কি লবণ ভেজে খাওয়া যাবে। উত্তর হবে না। লবণ ভেজে নিলে সোডিয়াম ক্লোরাইডের ব্যত্যয় ঘটে না। লবণ ভেজে খাওয়ার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। বিকল্প লবণ হলো পটাসিয়াম ক্লোরাইড। যাদের উচ্চরক্তচাপ, কিডনির অসুখ বা হৃদরোগ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে লবণ গ্রহণও বিপজ্জনক। এছাড়া উচ্চরক্তচাপের কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে এমনিতেই পটাসিয়ামের আধিক্য থাকতে পারে তাদের ক্ষেত্রে এমন লবণ গ্রহণ করা ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত