নবাব হলের দুঃখ পানির ফিল্টার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহে ১৩টি ফিল্টার স্থাপন করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে দুটি স্থাপন করা হয় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলে। কিন্তু ফিল্টারগুলো প্রায়ই নষ্ট থাকে। এদিকে এগুলো বারবার মেরামতের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হল প্রশাসন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা পানির তীব্র সমস্যায় ভুগছেন। ফলে এই ফিল্টারগুলো এখন নবাব হলের দুঃখ হয়ে দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিম্নমানের ফিল্টার স্থাপনের কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন ও অন্যান্য স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ১৩টি পূর্ণ সেট পানির ফিল্টার (রিভার্স অসমোসিস) ক্রয় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক হাজার ও দেড় হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব ফিল্টারের প্রতিটির দাম গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। অথচ ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অপরাজিতা-২৪ হল কর্তৃপক্ষ ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার একই ফিল্টার চারগুণ কম দামে এক লাখ সাড়ে ২৭ হাজার টাকায় ক্রয় করে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অনুপাতের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে বেশি টাকায় ক্রয়কৃত পানির ফিল্টারগুলো প্রতি হলে গড়ে ২টি করে স্থাপন করা হয়। ফলে প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর দশ তলাবিশিষ্ট দুই ব্লকের নবাব হলের জন্য ২টি আবার তিনতলাবিশিষ্ট অন্য হলের জন্যও ২টি ফিল্টার স্থাপন করা হয়। এমন অদূরদর্শী ও অপরিকল্পিত বণ্টনের ফলে নবাব হলের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই খাবার পানির সংকটের ভোগেন। আর ফিল্টার রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে হল প্রশাসন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ মাসে নবাব হলের পানির ফিল্টার ১৯ বার মেইনটেন্যান্স করতে হয়েছে। এতে পানির ফিল্টারের প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও মেরামত বাবদ মোট ২ লাখ ৫ হাজার ৫৭০ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) ইঞ্জিনিয়ার মো. আল মামুন সংকটের জন্য শিক্ষার্থীদের পানির অতিরিক্ত অপচয়ের কথা উল্লেখ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা শুধু খাবার পানি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এটি দিয়ে মুখ-হাত ধোয়া থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত করে। এই অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মেশিনের ওপর চাপ পড়ে, এটার তো ফিল্টার করার একটা লিমিটেশন আছে।’

আর শেকৃবির নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) ইঞ্জিনিয়ার মো. মুনির হোসেন বলেন, ‘এই এলাকার পানিতে অনেক আয়রন আর ফিল্টারের মেমব্রেন হলো কিডনির মতো, এর ওপর চাপ বেশি পড়লে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।’ ফিল্টারের উচ্চ মেইনটেন্যান্স খরচের বিষয়টি আগে থেকে জানতেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা অন্য কোথাও (বিশ্ববিদ্যালয়) নেই, আমরাই প্রথম করেছি। আমরা ইউজিসির কাছে মেইনটেন্যান্স খরচ চেয়েছি।’

পানির অপচয় ও সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে নবাব হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটা হলো অজুহাত। পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্চদামে নিম্নমানের ফিল্টার লাগিয়েছে। এখন দুই দিন পর পর নষ্ট হয় আর মেরামতের নামে বিল করা হয়, যত নষ্ট তত বিল।’

এই বিপুল ব্যয়ের বিষয়ে নবাব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফিরোজ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হল চলে শিক্ষার্থীদের টাকায়, প্রশাসন থেকে কোনো বরাদ্দ নেই। ফিল্টারের পেছনে যেভাবে খরচ করতে হচ্ছে, তাতে হলের অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল বিভাগ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত