‘তোমরা আন্দোলন করে আমার চাকরি খাইও না’

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জড়ো হন শতাধিক শিক্ষার্থী। সাত শিক্ষকের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে চলছিল অবস্থান কর্মসূচি। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে করজোড়ে কর্মসূচি বন্ধের অনুরোধ জানান বদলি হওয়া এক শিক্ষক। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, তিনি সরকারি চাকরি করেন এবং তার বদলি হয়েছে। আন্দোলনের কারণে চাকরি চলে গেলে পরিবার নিয়ে তাকে না খেয়ে থাকতে হবে।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাত শিক্ষককে বদলি করার প্রতিবাদে এ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। পরে বদলি হওয়া সাত শিক্ষকের একজনÑ ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। আমার বদলি হয়েছে। তোমরা আন্দোলন করে আমার চাকরিটা খাইও না। আমি পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরব। তোমরা আমার সঙ্গে আসো। এমন করলে আমার চাকরিটা থাকবে না।’

শিক্ষকের এ বক্তব্যে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা শিক্ষককে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি তাদের বাবার মতো। তাঁদের আন্দোলনের কারণে তাঁর চাকরির কোনো ক্ষতি হলে তাঁরা সেটিও মেনে নেবেন না।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তাফসিলা আজমির বলেন, গত ১৩ জুলাই শুধু সরকারি মহিলা কলেজ নয়, পুরো কুমিল্লা নগরই জলাবদ্ধ ছিল। জলাবদ্ধতা নিরসন শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়। এটি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। কলেজের পাশেই শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। তাহলে জলাবদ্ধতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন তাঁদের শিক্ষকদের শাস্তি দেওয়া হলোÑএ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কলেজ সূত্র জানায়, বদলি হওয়া সাতজনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। তাঁর ছেলে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি দায়িত্ব নেননি। অধ্যাপক আবদুল মালেক ছিলেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের তাগিদেই এই আন্দোলন করছিল। বিষয়টি দেখার পর আমি ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেছি। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাই না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত