ব্যাংক কর্মকর্তাকে কৌশলে কারে তুলে মুক্তিপণ আদায়

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

রাজধানীর খিলক্ষেতের কুড়িল বিশ্বরোড থেকে অভিনব কৌশলে ব্যাংক ম্যানেজারকে ‘যাত্রীবাহী’ প্রাইভেটকারে তুলে জিম্মি ও নির্যাতন চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা অপহরণ ও ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন সুবেদ রানা ও মিরন ওরফে সুজন। এ ছাড়া অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার খিলক্ষেত থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রগ্রপ্তার সুবেদ রানার বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সদর থানাধীন চর গাজীপুর এলাকায়। বর্তমানে তিনি মিরপুরের কাঁঠাল তলায় বসবাস করেন। আর মিরনের বাড়ি বরগুনা জেলার সদর থানার কালির তবক এলাকায়। তিনি মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে থাকেন। তারা দুজনেই পেশাদার অপরাধী। ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক চুরি, ছিনতাই ও অপহরণের মামলা রয়েছে।

এম তানভীর আহমেদ বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় ও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অভিনব উপায়ে যাত্রীদের জিম্মি করে। সম্প্রতি তারা খিলক্ষেত থেকে এক ব্যাংক ম্যানেজারকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। গাড়ি চলতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ভুক্তভোগীর হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে তাকে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে ৩০০ ফিট রাস্তার পাশে একটি নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।

মামলার এজাহার বলা হয়, গত ২১ জুন সকালে কুড়িল বিশ্বরোড বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে কাঞ্চন ব্রিজগামী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যাংকার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে থামে এবং চালক সদয় ভঙ্গিতে কাঞ্চন ব্রিজ যাওয়ার কথা বলে কামরুজ্জামানকে গাড়ির পেছনের সিটে তুলে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে ওঁৎ পেতে বসে থাকা চক্রের দুই সদস্য দ্রুততার সঙ্গে কামরুজ্জামানের দুই হাত পেছনের দিকে শক্ত করে বেঁধে তার কাছে থাকা নগদ টাকা এবং ব্যবহৃত মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপর পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করে। টাকা না দিলে তাকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় ব্যাংকারকে ৩০০ ফিট এলাকাসহ পূর্বাচল ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন নির্জন সড়কে বেশ কিছু সময় ধরে ঘুরিয়ে জিম্মি করে রাখে। প্রাণ বাঁচাতে কামরুজ্জামান তার কর্মস্থলের সহকর্মী রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সহকর্মী রবিউল ৫ লাখ টাকা নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে গিয়ে সুবেদ রানার হাতে টাকা বুঝিয়ে দেন। পরে বেলা ১১টা ১৪ মিনিটে অপহরণকারীরা কামরুজ্জামানকে নীলা মার্কেট গোলচত্বরের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মূল আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত