প্রত্যাশার বাস্তবায়ন কতদূর...

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

তারুণ্যই শক্তি। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪২ দশমিক ৮৪ শতাংশ ১৫-৩৯ বছর বয়সী। এ ছাড়া শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং চল্লিশোর্ধ্ব মানুষের হার ২৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। তরুণ শ্রেণির সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪৬ শতাংশ। দেশের অর্থনীতিতেও এই তরুণরাই নেতৃত্বে থাকবে। চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় প্রধান নগরী। দেশের ৯৩ শতাংশ আমদানি রপ্তানির বাণিজ্য সংঘটিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ আয়ের ২৭ শতাংশ জোগান দিচ্ছেন। তাই চট্টগ্রাম ঠিক থাকলে সচল থাকবে দেশের অর্থনীতি।

কিন্তু আমরা যখন দেখি, এই শহরে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ নেমে আসে, প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা নেই, অপরিকল্পিত নগরায়নে মানুষের স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ, তখন আর এই শহরকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলার সুযোগ থাকে না। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতায় হয়তো বাণিজ্যিক রাজধানী শোভা পায়; কিন্তু বাস্তবে তা বহুদূর। এই নগরে বাণিজ্যিক কর্পোরেট সংস্থাগুলোর হেড অফিস নেই, বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতায় এখানকার মানুষ ঢাকামুখী। এই নগরকে কিভাবে একটি বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে তোলা যায় তা জানতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে তরুণ নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, বিজনেস লিডার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায় সফল উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে বিতর্ক চর্চার প্রসার ঘটানো পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরের তরুণদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আগামীর চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের ভাবনা।

এই তরুণরাই আগামীতে চট্টগ্রাম তথা দেশের নেতৃত্বের পর্যায়ে যাবে। তাদের মতামতে ওঠে এসেছে অতীতের সমস্যা এবং বর্তমান থেকে আমরা কিভাবে আগামীতে একটি ভালো পর্যায়ে যেতে পারি। এখন তাদের কাছ থেকে আসা এসব পরামর্শ বাস্তবায়নের ভূমিকা পালন করবে এই শহরের প্রধান উন্নয়ন ও সেবা সংস্থাগুলোর প্রধানরা।

এতে সবার আগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের। উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবসায়ীদের পক্ষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নতুন নতুন ব্যবসায়ীদের চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিয়ে আসতে ও সংগঠিত করতে কাজ করছে চিটাগাং চেম্বার। তাই তরুণদের কাছ থেকে যে প্রত্যাশা এসেছে এর প্রতিক্রিয়া জানতে এসব সংস্থা প্রধানের বক্তব্যও উপস্থাপন হয়েছে বিশেষ সংখ্যাটিতে।

আমরা আশা করবো তরুণদের ভাবনার প্রত্যাশা পূরণ করে এগিয়ে যাবে আগামীর চট্টগ্রাম। সরকারের সংস্থাগুলোর প্রধানদের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী এমপি যাঁরাই আছেন তারা এগিয়ে নিবেন চট্টগ্রামকে। চট্টগ্রামের সৌভাগ্য যে এবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই শহরের। চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে উনাকে অবহিত করার প্রয়োজন নেই। নিজের নির্বাচনী এলাকাও শহরের মধ্যেই। তাই তরুণদের প্রত্যাশা হয়তো এই অর্থমন্ত্রীর হাত দিয়ে প্রত্যাশা বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত