বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের ১১ বছর। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক ভূমি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫৪ হাজার মানুষের ৬৮ বছরের রাষ্ট্রহীন ও বন্দীজীবনের অবসান ঘটে।
নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, ভোটাধিকার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও বিলুপ্ত ছিটমহলের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহল ১৭ হাজার ২৫৮ একর জমিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ৫১টি ছিটমহল ৭ হাজার ১১০ একর জমিসহ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এতে বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার এবং ভারতে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ নিজ নিজ দেশের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীরা জানান, নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কিছু উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান, বাজার অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে নির্মিত আইসিটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্প বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় অনেক তরুণ এখনো বেকার।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় বর্তমানে প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাস। ছিট বিনিময়ের পর এলাকাটি পার্শ্ববর্তী তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে ছিটমহলের ইতিহাস ধরে রাখতে দাসিয়ারছড়াকে পৃথক ইউনিয়ন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রামে ১২টি, লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি এবং নীলফামারীতে ৪টি অবস্থিত। ছিটমহল বিনিময়ের এক যুগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর প্রত্যাশা, নাগরিকত্বের স্বীকৃতির পাশাপাশি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পূর্ণ সুফলও যেন তাদের জীবনে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।
দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা মোটামুটি সব পেয়েছি। এখন আমাদের সবার দাবী দাসিয়ারছড়াকে ইউনিয়ন ঘোষণা করা হোক, এটা হলে আর সরকারের কাছে চাওয়া পাওয়া নেই।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রহীন জীবনের অবসান হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকটাই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দাসিয়ারছড়াকে পৃথক ইউনিয়ন ঘোষণা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
