ছোটপর্দায় নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে নজর কেড়েছেন আনিকা বিনতে কামাল আইরা। মোস্তফা কামাল রাজের ‘লাইক ফাদার লাইক সন’ নাটক দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসা এই অভিনেত্রী পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে মাঝখানে কিছুদিন কাজ থেকে দূরে ছিলেন। তবে বিরতি ভেঙে আবারও পর্দায় ফিরছেন তিনি। এবারও তার সঙ্গী এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। সেরনিয়াবাত শাওনের রচনা ও পরিচালনায় ‘আমাকে দুঃখ দিও না’ নাটকে দেখা যাবে এই জুটিকে। অভিনয় ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ
নতুন নাটক নিয়ে ফিরছেন। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
পড়াশোনার ভীষণ চাপ থাকার কারণে বাধ্য হয়েই কিছুদিন কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল। বিরতি কাটিয়ে ‘আমাকে দুঃখ দিও না’ নাটকের মাধ্যমে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দারুণ লেগেছে। নাটকটির গল্প এক কথায় চমৎকার। পরিচালক সেরনিয়াবাত শাওন ভাইয়ের নিজের লেখা। চিত্রনাট্য পড়ার সময়ই গল্পটি আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। শুটিংয়ের সময় তিনি প্রতিটি দৃশ্য নিখুঁতভাবে বুঝিয়ে নিয়েছেন। ওনার সঙ্গে এটিই আমার প্রথম কাজ, অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত।
এই নাটকে আবারও খায়রুল বাসারের বিপরীতে অভিনয় করলেন। সহশিল্পী হিসেবে তার সম্পর্কে জানতে চাইলে কী বলবেন?
বাসার ভাইয়ের সঙ্গে এর আগে মারুফ হোসেন সজীবের ‘আমি এখানেই থাকবো’ নাটকে কাজ করে দর্শকদের প্রচুর ভালোবাসা ও সাড়া পেয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত পেশাদার এবং ভীষণ সহযোগিতাপরায়ণ। ওনার সঙ্গে কাজের রসায়নটা সবসময়ই চমৎকার হয়। এই নাটকেও আমাদের বোঝাপড়াটা খুব ভালো ছিল।
নতুন কাজ নিয়ে প্রত্যাশা কেমন?
নাটকটি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। সত্যি বলতে, এই কাজটি নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। দর্শক আমাদের আগের কাজগুলো যেভাবে পছন্দ করেছিলেন, আমার বিশ্বাস
এই মিষ্টি প্রেমের গল্পের নাটকটিও সবার মন জয় করবে।
অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা কবে থেকে?
আমি নিজেকে এখনো পুরোপুরি পেশাদার অভিনেত্রী মনে করি না; প্রতিনিয়ত শিখছি এবং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করছি, তাই এই মুহূর্তে পড়াশোনা শেষ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। পড়াশোনা শেষ করে ইনশাআল্লাহ অভিনয়ে পুরোপুরি নিয়মিত হব।
পরিবারের সমর্থন কেমন পাচ্ছেন?
পরিবারের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা একদমই সম্ভব ছিল না। আমার বাবা-মা প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও এখন সবসময় আমার পাশে থাকেন এবং আমার পছন্দকে গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া আমার দুটি ছোট বোন আছে, ওরাই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক ও অনুপ্রেরণা।
এখন পর্যন্ত কোন কাজগুলোতে দর্শকের বেশি সাড়া পেয়েছেন?
২০২২ সালে মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের পরিচালনায় ‘মনের সাথী’ নাটকের মাধ্যমে আমার যাত্রা শুরু হয়। সেখানে ফারহান ভাই ও সামিরা মাহি আপু সহশিল্পী ছিলেন। এরপর রাজ ভাইয়ের ‘লাইক ফাদার লাইক সন’-এ কাজ করে বেশ সাড়া পাই, যেখানে তামিম মৃধা ও তারিক আনাম খান স্যারের মতো জ্যেষ্ঠ শিল্পী ছিলেন। এ ছাড়া মিফতাহ আনানের ‘আপন যে জন’, খায়রুল বাসার ভাইয়ের সঙ্গে ‘দেখা হওয়ার কথা ছিল’ ও ‘আমার বউ সব জানে’ নাটকগুলো দর্শক খুব পছন্দ করেছেন। সামনে ‘কাঠগোলাপের বিয়ে’ ও ‘পরিবার পরিকল্পনা’ নাটক দুটি আসবে।
মডেলিংয়েও আপনার দারুণ উপস্থিতি। এ ক্ষেত্রের কাজের পরিধি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
নাটকের পাশাপাশি ক্লোজআপ, বেলামি, এয়ারটেল, বাংলালিংক, ডেনিশ ও সেনোরার মতো বেশ কিছু টিভিসি ও ওভিসিতে কাজ করেছি। সেই সঙ্গে সেইলর, ক্যাটস আই, কায় ক্রাফট, ট্রু এভভ, নোয়ার ও কিউরিয়াসের মতো ব্র্যান্ডের মডেল হয়েছি। পাশাপাশি রবি, সিটি ব্যাংক, ইউসিবি, ভিভো, ইনফিনিক্স ও আড়ং ডেইরির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যিক ফটোশুটে অংশ নিয়েছি। এটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। মডেলিং করতে আমার খুবই ভালো লাগে।
আপনার পছন্দের সহ-অভিনেতা কারা? তাদের কাছ থেকে থেকে সাপোর্ট কেমন পাচ্ছেন?
আমার কাছে একজন ভালো সহ-অভিনেতা মানে শুধু চমৎকার অভিনয় করা নয়, বরং পুরো টিমকে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করানো। আমি যাদের সঙ্গেই কাজ করেছি, সবার কাছ থেকেই দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষ করে নতুন হিসেবে জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। যাদের সঙ্গে কাজের বোঝাপড়া ভালো হয় এবং যারা কাজের প্রতি আন্তরিক, তাদের সঙ্গেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। খায়রুল বাসার ভাই ভীষণ পেশাদার ও সহযোগিতাপরায়ণ। আর তারিক আনাম খান স্যার অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ী। শুটিং সেটে তাদের মতো শিল্পীদের সমর্থন একজন অভিনয়শিল্পীর আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে এখন পর্যন্ত সেটের সবার কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া ও শেখার সুযোগ পেয়েছি।
