মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর (প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে আগামী মঙ্গলবার ঢাকা আসছেন। তিনি ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সফর শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় একজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রচেষ্টারই প্রতিফলন এই সফর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে অ্যাডমিরাল কোহলার বাংলাদেশের সামরিক ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রসীমার সুরক্ষা, নৌ সহযোগিতা এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে স্টিফেন কোহলার ইউএসএস কার্ল ভিনসনের এক্সিকিউটিভ অফিসার ছাড়াও ফাইটার স্কোয়াড্রন-১৪৩, ইউএসএস বাতান এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম, সাউদার্ন ওয়াচ, ইরাকি ফ্রিডম ও ইনহেরেন্ট রিজলভসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও লিবিয়াকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন। হাইতির ভূমিকম্প-পরবর্তী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন ইউনিফাইড রেসপন্স’ এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন নৌ অভিযানের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি।
ফ্ল্যাগ অফিসার হিসেবে তিনি ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের অপারেশনস ডিরেক্টর, ইউএস থার্ড ফ্লিটের কমান্ডার এবং জয়েন্ট স্টাফের স্ট্র্যাটেজি, প্ল্যানস অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
