ইরানকে ‘বিপ্লব রপ্তানির’ নীতি ত্যাগ করতে হবে: রুবিও

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার পরিবর্তন না হলেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার আচরণে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে 'বিপ্লব রপ্তানি' এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের নীতি ত্যাগ করতে হবে তেহরানকে।

রবিবার (২ জুলাই) ফক্স নিউজের মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, 'আমি মনে করি, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। হয়তো সরকার পরিবর্তন নাও হতে পারে, কিন্তু শাসনব্যবস্থার আচরণ অবশ্যই বদলাতে হবে।'

তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের দীর্ঘদিনের নীতি হলো শুধু নিজেদের দেশ পরিচালনা নয়, বরং পুরো অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার এবং ‘ইসলামী বিপ্লব’ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা। এই নীতির পরিবর্তন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুবিওর ভাষায়, 'তাদের এই নীতির মূল্য এতটাই বাড়িয়ে দিতে হবে, যাতে সেটি বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব না হয়। তবেই তারা এ পথ থেকে সরে আসবে।'

তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কেবল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট ,ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না।

রুবিওর দাবি, 'আমি মনে করি না, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এর আগে ট্রাম্পের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি শুধু কথা বলেন না, প্রয়োজন হলে পদক্ষেপও নেন।'

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই থেকে তিন দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহনশীলতার সুযোগ নিয়েছে। চুক্তি ভঙ্গ, প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন কৌশলে অন্যদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ তারা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কো রুবিও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ইরানের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে এবং তারা ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। তবে যে প্রচলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আড়ালে তারা এতদিন নিরাপদ ছিল, সেটি আর আগের মতো কার্যকর নেই।

তিনি বলেন, 'এই কারণেই এখন ইরান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতায় আগ্রহী বা কিছু ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কারণ আমরা এখন শক্তিশালী অবস্থান থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।'

রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত রেখে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন। ওই সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে।

শনিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য সময় চেয়েছে। তার ভাষায়, ওই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি 'তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গভাবে' খুলে দেওয়া হবে এবং 'ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান' ঘটবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অর্থবহ আলোচনায় ফিরে না আসা পর্যন্ত ইরানকে “এর মূল্য দিতে হবে”। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, তেহরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় আগ্রহী কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনে পরিস্থিতি আরও কঠোর করার বিভিন্ন বিকল্পও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত