নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে একটি গ্রাম ও সেনাঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত ৫২ জনকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। অপহৃতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে সোমবার (৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার মধ্যরাতের পর মোটরসাইকেলে করে একদল বন্দুকধারী কাওরা নামোদা স্থানীয় সরকার এলাকার কাসুয়ার দাজি গ্রামে ঢুকে পড়ে। গ্রামে প্রবেশের আগে তারা গ্রামের উপকণ্ঠে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা সেনাঘাঁটি থেকে বেশ কয়েকটি রাইফেল নিয়ে যায় এবং একটি সামরিক টহলযানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা গ্রামে ঢুকে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে বহু মানুষকে অপহরণ করে।
গ্রামের বাসিন্দা শেখু আবদুল্লাহি জানান, প্রথমে ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে কিছুজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অন্তত ৫২ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। অপহৃতদের মধ্যে তার ১২ বছর বয়সী মেয়েও রয়েছে।
আরেক বাসিন্দা আহমাদ উসমান বলেন, বন্দুকধারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে তুলে নিয়ে গেছে। তারা তার দুই ছেলের স্ত্রী এবং পরিবারের দুই কিশোরীকেও অপহরণ করেছে।
তবে সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ ইব্রাহিম মুসা বলেন, হামলাকারীরা তাদের এলাকায় অবস্থানরত সেনাঘাঁটিকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি জানান, এটি তাদের এলাকায় প্রথম হামলা নয়; এর আগেও একটি পুলিশ স্টেশন হামলার শিকার হয়েছিল।
এদিকে, নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ওলানিই ওসোবা দাবি করেছেন, সেনারা সফলভাবে সেনাঘাঁটির ওপর হামলা প্রতিহত করেছে। তবে হামলায় একজন সেনাসদস্য ও একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলাকারীরা অজ্ঞাতসংখ্যক গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে বলেও তিনি জানান।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাইজেরিয়া সরকার বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বোঝাতে এ শব্দটি ব্যবহার করে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকায় ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধী চক্রগুলোর ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। দুর্বল রাষ্ট্রীয় উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এসব গোষ্ঠী কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, গবাদিপশু লুট, গ্রামে হামলা এবং অবৈধ খনন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
