জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আনিসুল গনি খানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল কর্মে তিনি মেনে চলেন না প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা। হাসপাতালের ডিউটি রোস্টারও মানেন না। ছুটি ছাড়াই চলে যান দেশের বাইরে। সরকারি আদেশ (জিও) বা অনুমোদন তার লাগে না। এমনকি সরকারি পাসপোর্টও ব্যবহার করেন না। ছুটি ছাড়াই তিনি গত বছর ৩ মাসে ২০ দিন বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। এ ছাড়া যেসব দিন উপস্থিত ছিলেন, সেসব দিনে প্রবেশের সময় উল্লেখ থাকলেও তিনি কখন বেরিয়ে গেছেন তা উল্লেখ নেই।
২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ২-এর খ উপধারায় বলা হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালার কোনো বিধানের পরিপন্থী কোনো কার্য, অথবা কোনো সরকারি কর্মচারীর পক্ষে শিষ্টাচারবহির্ভূত কোনো আচরণ শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট বিধি অনুযায়ী, পাসপোর্ট আবেদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনাপত্তি সনদ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর সুপার নিউমারি পদে পদোন্নতি পেয়ে ডা. আনিসুল গনি খান সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) হন। তিনি ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২৬ দিন হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে তিনি ছুটি নেননি বা অসুস্থও ছিলেন না। তিনি বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তিনি একটি সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, যার নম্বর ‘এও-৪৭৪৩৬৫৯’।
ইমিগ্রেশন অফিসের তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি গত বছরের ২৮ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপ ভ্রমণ করেন। ২৮ আগস্ট ঢাকা থেকে মাদ্রিদের উদ্দেশে যাত্রা করেন কিউআর৬৪১ ফ্লাইটে। ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন ইকে৫৮২ ফ্লাইটে। এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর এসভি৮০৩ ফ্লাইটে মিসরের কায়রোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। ২৬ অক্টোবর কায়রো থেকে এসভি৮০৮ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। একইভাবে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিএস২১৭ ফ্লাইটে তিনি ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ৫ অক্টোবর দেশে ফিরে আসেন বিএস২১৮ ফ্লাইটে। একই বছরের ২১ অক্টোবর ইউএল১৯০ ফ্লাইটে তিনি কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা করেন এবং ২৬ অক্টোবর মালে থেকে বিএস৩৩৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরে আসেন।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের হাজিরায় দেখা যায়, গত বছরের ২৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন ডা. আনিসুল। এর মধ্যে দুই দিন সরকারি ছুটি ছিল। ওই মাসের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্তও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও এই সময়ের মধ্যে তিন দিন সরকারি ছুটি ছিল। এ ছাড়া তিনি সেপ্টেম্বরের ২০, ২১ তারিখে অনুপস্থিত ছিলেন। একই বছরের ২২ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় একদিন সরকারি ছুটি ছিল।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের এইচআরআইএস নথি সংরক্ষণ খাতায় দেখা গেছে, আনিসুল গনি খান ২০২৫ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুই দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করেন। বাকি অনুপস্থিতির কোনো কারণ বা ছুটি গ্রহণ করেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লিখিত এই সময়ে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ আনিসুল গনি বলেন, এটা বহু আগের একটা রিপোর্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী তদন্ত কমিটি হয়েছে। এটা তো তদন্তাধীন বিষয়। আমি সাক্ষ্য দিয়েছি, আমার কাগজপত্র দিয়েছি। যদি ফল্ট পায় তারা ব্যবস্থা নেবে। আমি কাগজপত্র সব সো করেছি।
