দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ষোলো বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন তাহলে ওই ব্যক্তির অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এমন বিধান আইনে সংযোজন সাংঘর্ষিক বলে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সম্পূরক আবেদনে বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
এর আগে, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের’ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসান এ রিট করেন।
তখন ৪ মে বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্মের দণ্ড সংক্রান্ত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর ৫ নম্বর কলামের '৯খ এর ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড’ ধারা বাতিলে রুল জারি করেন।
এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা হয়।
বিধানটি আইনেও সংযোজন করা হয়। রুলে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সংযোজিত এ বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আইনজীবী জানান, আজকের সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসান আরও জানান, এটা বৈষম্যমূলক সেকশন। প্রতিশ্রুতি কিন্তু যে কেউ না রাখতে পারে। নারীও না রাখতে পারে পুরুষও না রাখতে পারে। কিন্তু শুধু মাত্র পুরুষের শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এখানে শুধু একজনকে দায়ী করা হয়েছে। এটা অসাংবিধানিক।
আইনের ৫ নম্বর কলামে বলা হয়, ‘৯খ’ বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড। যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ষোলো বৎসরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
