‘গুন্ডা’ বলায় রেগে আগুন নেইমার

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১ পিএম

কোপা দো ব্রাজিলের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রেমোকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সান্তোস। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের অ্যাসিস্টে রনি ঠিক জয়সূচক গোলটি এনে দিলেও মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ম্যাচ শেষের অনাকাঙ্ক্ষিত এক নাটক। প্রতিপক্ষকে নিয়ে নেইমারের বিদ্রূপাত্মক উদ্‌যাপন এবং রেমো সভাপতির চরম ক্ষোভ ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

সাংবাদিক ব্রেনো রাইওলের ধারণ করা এক ভিডিও এবং ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের গ্লোবোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাঙ্গুইরাও স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার টানেলে ঘটে যত কাণ্ড। রেমোর বিপক্ষে ১-০ গোলের এই জয়ের পর মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার।

গ্যালারি থেকে আসা দুয়োর জবাব দিতে গিয়ে নিরাপত্তার বেষ্টনীর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ দলের কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘বাদ পড়েছ! বাদ পড়েছ!’ যদিও এর আগে রেমোর কিছু সমর্থক ও কর্মকর্তা নেইমারকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন বলে জানা যায়।

ম্যাচজুড়েই স্বাগতিক দর্শকদের দুয়োর মুখে থাকা এই ফরোয়ার্ডের এমন আচরণকে চরম অসৌজন্যমূলক ও বিব্রতকর বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরও মাঠে ও মাঠের বাইরে নেইমারের এমন শিশুসুলভ আচরণ তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষভাগে এক কালো দাগ ফেলে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ঘটনার আকস্মিকতায় ভিডিওতে সান্তোসের আরেক তারকা গাবিগোলকেও দেখা যায়। তিনি বেশ দূর থেকে পুরো ঘটনাটি গভীর বিস্ময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এদিকে রেমোর সমর্থক ও কর্মকর্তারা ক্ষোভে নিরাপত্তাবেষ্টনীর কিছু অংশ ভেঙে ফেললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সান্তোসের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ড্রেসিংরুমের সামনে এসে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান।

ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা; যিনি তোনিয়াও নামেও পরিচিত। সান্তোসের মতো বড় ক্লাবের এমন আচরণের সমালোচনা করে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘একটি দুর্দান্ত লড়াই হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, অথচ সান্তোসের মতো দলের এ ধরনের কাজের প্রয়োজন ছিল না। আর এই গুন্ডা নেইমার, যাকে একদল শিশু আইডল বা আদর্শ মানে, সে এখানে তার নাটকগুলো করে আবার উসকে দিতেও এসেছিল। তাই, এই ধরনের গুন্ডাকে আদর্শ মানার অপরাধ তো আমাদেরই।’

ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে রনির গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে সান্তোসের জয়ে অবদান রাখলেও, শেষ বাঁশির পরের এই কদর্য আচরণ নেইমারের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলাকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফুটবল ভক্তরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নেইমারকে আরও পেশাদার ও সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত