নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ে (নোবিপ্রবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার উদ্বৃত্ত খাবার একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের খাবার রিকশা ও কার্টুন ভরে ছাত্রদলের হলের রুমে নিয়ে যাওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সুষম বণ্টন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোচনা সভা শেষে অবশিষ্ট খাবারের কয়েকশ প্যাকেট রিকশা ভরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম হলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের হলের ২০৪ নং কক্ষসহ নির্দিষ্ট কিছু রুমে উক্ত খাবার পৌঁছানো হয়।
এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, অডিটোরিয়াম ও হলের সামনে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অতিরিক্ত খাবার যদি বণ্টন করতেই হয় তবে তা হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করা যেত। কিন্তু প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছে।
বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘খাবার অতিরিক্ত থাকবে ভালো কথা। শিক্ষার্থীরাই নিবে, ওকে। তবে নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকেই দিতে হবে কেন শুধু? বাকিরা? উক্ত ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের রুমেও আনুমানিক প্রায় ২০-২৫ বা তার বেশি প্যাকেট খাবার গেলো নিজের চোখে দেখলাম। একেকজন দেখলাম ৪/৫ প্যাকেট নিলো। সালামের সামনে এক রিক্সা ভরে প্যাকেট আসলো। কয়েকশ তো হবেই। তাও ভালো যে শিক্ষার্থীরা নিছে, কিন্তু বাকি ছাত্র সংগঠন বা প্রতিনিধিরা কি দোষ করলো?’
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কায়সার আহম্মদ আবিদ ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘অতিরিক্ত খাবার বন্টন কিংবা অডিটোরিয়ামে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কি প্রশাসন রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে দিয়েছে? যদি তাই হয়, তবে প্রজ্ঞাপন আকারে দেয়া উচিত। কারণ, উনাদের বন্টন আর শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব এতটাই সৎভাবে উনারা পালন করেন যে,অডিটোরিয়ামে আপনি সিনিয়র হোন আর যে হোন না কেন, আপনার পরিচয়ের চেয়েও আপনি চুপচাপ প্রোগ্রাম উপভোগ করছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করাপা উনাদের জন্য মুখ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘নোবিপ্রবির আর দশটা শিক্ষার্থীর মতো আমিও চাই,ছাত্রদলকে ক্লাবগুলোর মতো রিকগনিশন দিয়ে সব প্রোগ্রাম হস্তান্তর করা হোক। উনারা যেভাবে বেঁচে যাওয়া খাবার নিয়ে গিয়ে, প্রথমে একটা রুমে রেখে সুনিপুণভাবে হস্তান্তর করেছেন তা প্রশংসাযোগ্য।’
অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে অবগত না, এখনো এরকম কোনো কিছু শুনি নাই। আমি সারা দিন অডিটোরিয়ামে ছিলাম, মাত্র আসলাম রুমে। তো এরকম কোনো কিছু এখনো শুনিনি। যদি শুনি তাইলে বলতে পারতাম আরকি।’
আপ্যয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং আইকিউএসি পরিচালক ও সিএসটিই বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী বলেন, ‘উদ্বৃত্ত খাবারের প্যাকেট গুলো কিভাবে কি করা হবে এটা নিয়ে যখন সদস্য সচিব আমার কাছে আসে আমি বলেছি যেন হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমি অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় খোঁজ নিতে পারি নাই। এখন আপনার থেকে শুনছি এ ঘটনার ব্যাপারে।’
