জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার উদ্যোগী হয়ে কেন ভারত থেকে ফিরিয়ে আনছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় বাগেরহাট সার্কিট হাউজে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, বন্দিবিনিময় চুক্তি বিদ্যমান থাকাবস্থায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে দেরি হচ্ছে কেন? সরকার কেন নিজ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনছে না। বরং তিনি (শেখ হাসিনা) কেন বলছেন ‘আমি ঢুকে যাব’। এটা সরকার ভালো বলতে পারবে। আপনি (প্রশ্নকারী সাংবাদিক) এ প্রশ্ন সরকারের কোনো মন্ত্রী এলে তাদের বলবেন। আপনার মতো আমাদেরও দাবি সরকারের নিজ দায়িত্বে তাকে আনা উচিত। তার বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে, সেটির বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ, সেগুলো তাকে ফেস করতে দেওয়া উচিত। তবে আমরা এ কথা সবসময় বলে থাকি বিচার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, অন্যায্য কোনো বিচার চাই না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি দলের। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি ক্ষমতাসীনদের দিক থেকেই ভায়োলেন্স শুরু হয়। রাজনীতিতে আসলে শারীরিক ব্যায়ামের জায়গা নেই। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতিতে মাসল পাওয়ারের (বাহুশক্তি) এক্সারসাইজ আমরা দেখে আসছি। এটা কোনো আমলে মুক্ত হয়নি, কারও আমলেই মুক্ত হয়নি।
দেশে গণমাধ্যম প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নয় বলে মন্তব্য করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, কালোকে কালো বলবেন, সাদাকে সাদা। আমিও কালো হলে আমাকে ছাড় দিয়ে কথা বলবেন না। জাতির এই চতুর্থ স্তম্ভটা যদি কার্যকর থাকে, ফাংশনিং থাকে, তাহলে আমরা আশা করব রাষ্ট্রযন্ত্রের সব বিষয় ফাংশনিং থাকবে। এ জায়গা যদি দুর্বল থাকে, তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে ভালো কিছু আশা করবেন না এটা হবে না। কারণ সরকার ভুল করে না শুদ্ধ করে, তা কে বলবে, বলবেন তো আপনারা? সেই জায়গাটা যখন অক্ষুণœ থাকবে, বলিষ্ঠ হবে, দেশ তখন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
বর্তমান সরকারের অধীন অল্প সময়েই জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, সরকার যে চালাবে, জনগণ বিবেচনায় নেবে পাঁচ বছর, বিরোধী দলেরও পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পর জনগণ তার বিচার করবে। তাদের বিচারের রায় দেবে। আমরা রায়ে বিশ্বাসী। বর্তমান সরকার কেমন করছে, তারা ব্যর্থ না সার্থক, তা জনগণ এখনই বলছে। আমরা বলব না, এই অল্প সময়ের মধ্যে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা চাইত, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হতো বলে বিশ্বাস করি।
মতবিনিময় সভা শেষে বাগেরহাট আলী মাদ্রাসায় জামায়াতে ইসলামীর রোকন সম্মেলনে যোগ দেন জামায়াতের আমির। রোকন সম্মেলন শেষে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে ষাঁটগম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।
