যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদিকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে সৌদি আরব। শুক্রবার (৭ আগস্ট) তার কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে গত মাসে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের প্রাণঘাতী হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি

জুলাইয়ের শেষ দিকে আল-জায়েদির রিয়াদ সফরের কথা ছিল। তবে ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায় পাঁচ ইরানিসহ ২০ যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর সেই সফর বাতিল করা হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়, আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদান। তিনি ‘সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি রাজধানী রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে একটি বার্তা’ পৌঁছে দেন।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের বাহিনী তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব হামলার জন্য ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল রিয়াদ। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে হামলা চালায়। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের সময় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে শত শতবার মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছিল।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জায়েদি ওই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।

ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দুটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার জবাবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা ঠেকাতেই এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শুক্রবার জোটটি জানায়, আজ যে জবাব দেওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও বদর সংগঠনের প্রধান হাদি আল-আমেরির আহ্বানের পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ‘সম্মানজনক অবস্থানের’ কথাও তারা উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশই ইরাকের প্রধান মিত্র। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে দেশটি কার্যত তাদের পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে ইরাকের সরকারগুলো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত