শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখা সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেই তৃষ্ণা না পাওয়া পর্যন্ত পানি পান করেন না। অথচ শরীরে পানির ঘাটতি হলে শুধু তৃষ্ণাই নয়, ত্বক, ঠোঁট, মাথাব্যথা ও ক্লান্তির মতো নানা লক্ষণেও তা বোঝা যেতে পারে।
পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন শরীরে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে কি না বোঝার পাঁচটি সহজ লক্ষণের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, দৈনন্দিন জীবনের এসব পরিবর্তন খেয়াল করলে পানিশূন্যতার বিষয়ে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব।
ত্বক দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া
শরীরে পানির ভারসাম্য বোঝার একটি সহজ উপায় হলো ত্বকের টার্গোর পরীক্ষা। হাতের উল্টো দিকের ত্বকের সামান্য অংশ আলতো করে চিমটি দিয়ে তুলে কিছুক্ষণ ধরে ছেড়ে দিতে হবে। ত্বক দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে এলে সাধারণত শরীরে পানির মাত্রা ঠিক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ত্বক আগের অবস্থায় ফিরতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় নিলে তা পানিশূন্যতার সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
ঠোঁট নরম ও আর্দ্র থাকা
ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ফেটে যাওয়া বা চামড়া ওঠাও শরীরে পানির ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ঠোঁট সাধারণত নরম, আর্দ্র ও সতেজ থাকে। তাই বারবার ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি।
ঘন ঘন মাথাব্যথা না হওয়া
পানিশূন্যতার সঙ্গে মাথাব্যথারও সম্পর্ক থাকতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে কিছু মানুষের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে। বারবার মাথাব্যথা হলে পানি খাওয়ার অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে মাথাব্যথার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
মুখ ও জিহ্বা আর্দ্র থাকা
শরীরে পানির ঘাটতি হলে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে এবং জিহ্বায় শুষ্কভাব দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে সাধারণত মুখ ও জিহ্বা আর্দ্র থাকে। তাই বারবার মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব করাও শরীরে পানির ঘাটতির একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।
অতিরিক্ত ক্লান্তি না থাকা
পানিশূন্যতার কারণে শরীরে দুর্বলতা, অবসাদ বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই স্বাভাবিক কাজের মধ্যেও অকারণে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগলে পানি খাওয়ার অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
পুষ্টিবিদ জৈনের মতে, এসব লক্ষণের কয়েকটি নিয়মিত দেখা দিলে দৈনিক পানি পানের অভ্যাসের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু এসব লক্ষণের ভিত্তিতে পানিশূন্যতা নিশ্চিত করা যায় না। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, খুব কম প্রস্রাব হওয়া, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি
