সাদা পাথর, রাতারগুল ও জাফলং

পরিবেশ রক্ষায় সিএইচডিএসএর সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর, রাতারগুল ও জাফলংয়ের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ইকোসিসটেম সংরক্ষণে দুই দিনব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে কমিউনিটি এন্ড হ্যাবিটাট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (সিএইচডিএস) ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর ও রাতারগুলে এবং ৮ আগস্ট জাফলংয়ে পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য ছিল সিলেটের পরিবেশ ও ইকোসিসটেম রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলা।

কমিউনিটি এন্ড হ্যাবিটাট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (সিএইচডিএস) জেনারেল সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন বলেন, সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।

সাদা পাথর, রাতারগুল কিংবা জাফলংয়ের সৌন্দর্য শুধু বর্তমান প্রজন্মের পর্যটকদের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও সম্পদ। তাই পর্যটন উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে।

আল মামুন বলেন, একজন পর্যটক শুধু দর্শনার্থী নন, তিনি প্রকৃতি সংরক্ষণেরও একজন অংশীদার। পর্যটনকেন্দ্রে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার না করা, নদী ও জলাশয় দূষণ না করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করা প্রত্যেক পর্যটকের নৈতিক দায়িত্ব।

পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা সুরক্ষা অভিযান ২০২৬’ শীর্ষক এ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য “পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ করি, টেকসই পর্যটন গড়ে তুলি। ক্যাম্পেইনের সময় পর্যটকদের যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার পরিহার, নদী ও পানির উৎস দূষণ না করা এবং প্রাকৃতিক পাথর, পাহাড়, বন ও জলাভূমির ক্ষতি না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জলজ ও স্থল জীববৈচিত্র্যের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, সাদা পাথর, রাতারগুল ও জাফলং শুধু পর্যটন ও বিনোদনের স্থান নয়, পাহাড়, নদী, বন, জলাভূমি, পাথর, পানি এবং অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এসব এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর, পরিবহনকর্মী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত