পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বালি উত্তোলন থামছে না

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের টইটং ও বারবাকিয়া বিটের অধীনে বটতলী, জুম পাড়া সোনাইছড়িতে অনুমোদনহীন মহাল বসিয়ে যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনের অভ্যন্তরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র বালি উত্তোলন করে পাচার করছে।

উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে বালি উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করে বালির স্তূপ মিশিয়ে দিলেও অদৃশ্য শক্তির ছত্র ছায়ায় আবারও কার্যক্রম শুরু হয়।

গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আকতার নিলয় টইটং সোনাইছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের মেশিন এবং পাইপ জব্দ করলেও ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।

এর এক সপ্তাহ আগে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বো পেকুয়া থানা-পুলিশের সহায়তায় টইটং বিটের টইটং ইউনিয়নের ঢালারমুখ, ছনখোলা, মধুখালীর মোস্তাকের দোকান নামক সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ছড়া থেকে উত্তোলিত অবৈধ বালুর কয়েকটি স্তূপ অভিযানে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, টইটং সোনাইছড়ি এলাকায় আবদু নবী ও ফারুক নামের দুই ব্যক্তি অবৈধ পন্থায় দীর্ঘদিন ধরে বালি উত্তোলন করে আসছে। টইটং ইউনিয়নের ঝুমপাড়া আবদুল্লাহর ঝিরিতে পাহাড় কেটে বালি প্রক্রিয়া করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কতিপয় বিএনপি ও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। পুইছড়ি রেঞ্জ ও বিটের অধীনে আবদুল্লাহর ঝিরিতে চকরিয়ার বরইতলী এলাকার এক ব্যক্তির সামাজিক বনায়নের প্লট কেটে কৃত্রিম উপায়ে এ বালি মহাল সৃষ্টি করা হয়েছে।

টইটং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক এমইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাসেম, যুবলীগ নেতা জয়নাল ও রিদুয়ানের নেতৃত্বে পাহাড় কেটে মেশিন দিয়ে পানির কৃত্রিম প্রবাহ সৃষ্টি করে আবার মেশিনের মাধ্যমে বালি স্তূপ করে। স্তূপকৃত বালি রিদুয়ানের মালিকানাধীন দুটি গাড়ি করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে থাকেন।

স্থানীয়রা জানায়, টইটং ইউনিয়নের বটতলী ও সোনাইছড়ি ঢালারমুখ জুমপাড়া এলাকায় অসংখ্য মেশিন বসিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম সওদাগর, যুবলীগ নেতা নবু মেম্বার, জমিরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা বালু উত্তোলনে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা আগে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে, এখন বিএনপি-জামায়াত পরিচয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া হাবিবপাড়া ও মালঘারা এলাকায় অন্তত ১৪টি মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় মোহাম্মদ হোছনের ছেলে যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম, মৃত দানু মিয়ার ছেলে আবদুল মজিদ, হাজী আবদুর রহমানের ছেলে আজিজুল হক ও হামিদুল হকসহ অনেকে প্রকাশ্যে বালি উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে জনচলাচলের রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। নদী ভাঙনসহ পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটলেও অবৈধ বালি উত্তোলনকারীরা প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় লোকজনকে জিম্মি করে এ অনৈতিক কাজ করে আসছে।

পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, অবৈধ পন্থায় বালি উত্তোলনের সংবাদ যখনই পেয়েছি তখনই অভিযান চালিয়েছি। শুক্রবারও টইটং সোনাইছড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি মেশিন ও পাইপ জব্দ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। যখন খবর পাচ্ছি তখনই অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত