পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, লাখ টাকা খোয়ালেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ এএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারকচক্র। পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পরিচয়ে ফোন করে মামলা, গ্রেপ্তার ও ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডজনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত তিন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। একই কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ থেকেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে দেড় লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার শুরু হয় ফোনকলের মাধ্যমে। ওপর পাশের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এমন সব তথ্য বলতে শুরু করেন, যা সাধারণত কেবল সংশ্লিষ্ট লেনদেনকারী ও এজেন্টেরই জানার কথা। এসব তথ্য জানিয়ে মুহূর্তেই বিশ্বাস অর্জন করার পর শুরু হয় ভয়ভীতি প্রদর্শন। কখনো গ্রেপ্তার, কখনো ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানোর হুমকি, আবার কখনো সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করা হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে প্রতারকচক্র।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহবুব আহমেদ ফাহিম অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মিনিবাজারের ‘বিসমিল্লাহ স্টেশনারি’ নামের একটি নগদ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে লেনদেন করি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করেন। পরে আমার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে একইভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আরও ৫৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

একই ধরনের প্রতারণার শিকার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. মোবাশ্বিরা মুস্তারিন। তিনিও একই এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট করার পরদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কল পান। তাকে জানানো হয়, জাল টাকা দেওয়ার অভিযোগে জিডি করেছে ওই এজেন্ট। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে মোরাশি^রার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয় ২০ হাজার ৩০০ টাকা। একই কৌশলে শিক্ষার্থী সুরাইয়া আফরিন রিশার ল্যাপটপ কেনার ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং একজন সিনিয়র শিক্ষিকার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকচক্র।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার প্রায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মিনিবাজারের নির্দিষ্ট স্টেশনারি থেকেই লেনদেন করেছিলেন। তাদের দাবি, লেনদেনের পরপরই প্রতারকরা ফোন করে কখন, কত টাকা, কোন মাধ্যমে এবং ঠিক কত সময়ে লেনদেন করা হয়েছে এসব তথ্য নির্ভুলভাবে জানিয়ে দেয়। এতে তাদের সন্দেহ, ওই এজেন্ট পয়েন্টের সঙ্গে প্রতারকচক্রের যোগাযোগ থাকতে পারে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এজেন্ট পয়েন্টের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সার্বক্ষণিকভাবে শেরেবাংলানগর থানার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।

আর শেরেবাংলানগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। তদন্ত চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত