ডিগবাজি মেরে থ্রো, সেখান থেকেই হেডে গোল!

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

ফুটবলে বিভিন্ন রকমের অ্যাসিস্ট দেখা যায়। তবে ইরানের ফুটবলার নাদের মোহাম্মদি যে কাজ করে দেখালেন তা দেখাই যায় না। থ্রো-ইন পেয়েছিল তাঁর দল। থ্রো করতে গিয়ে ‘সামারসল্ট’ দেন নাদের মোহাম্মদি। সেই বল বক্সে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে গোলও হয়ে যায়। অদ্ভুত থ্রো এবং অ্যাসিস্ট করার সুবাদে নজর কেড়েছেন মহম্মদি। এই ধরনের থ্রো-কে ‘ফ্লিপ থ্রো’ বলা হয়।

রাশিয়ার দ্বিতীয় ডিভিশনের ফুটবল ম্যাচে ঘটনাটি ঘটেছে। স্পার্টাক কস্ত্রোমার হয়ে খেলতে নেমেছিলেন মহম্মদি। বিপক্ষ ছিল এসকেএ খাবারোভস্ক। প্রতিপক্ষের বক্সের কাছে একটি থ্রো করার সময় নাদের মোহাম্মদি ডিগবাজি খেয়ে বল ছুড়ে দেন। খেলাধুলোর ভাষায় একে ‘সামারসল্ট’ বলা হয়।

 

 

এই প্রথম বার এমন কাজ করেননি তিনি। অতীতে ২০২১-এ একটি ম্যাচে নিজের অর্ধ থেকে একটি ফ্লিপ-থ্রো করেছিলেন তিনি। তবে সেটি থেকে গোল হয়নি।

ফুটবলে ফ্লিপ থ্রো শুরু করেছিলেন এস্তোনিয়ার রিস্তো কালাস্তে এবং নিউক্যাসলের স্টিভ ওয়াটসন। ১৯৯০-এর শুরুর দিকে তাঁরা এই থ্রো করে বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন। তার পর আরও অনেককে এই থ্রো করতে দেখা গিয়েছে।

জিমন্যাস্টিকস থেকে ফুটবলের সবচেয়ে অদ্ভুত থ্রো-ইন

এই কৌশলটি কোনো হঠাৎ দেখানো চমক বা প্রদর্শনী নয়। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে মোহাম্মাদি প্রায় এক দশক জিমন্যাস্টিকস অনুশীলন করেছিলেন। তিনি আগে জানিয়েছেন যে, খেলায় তাঁর এই পটভূমিই তাঁকে সামারসল্ট (ডিগবাজি) থ্রো তৈরি করতে সাহায্য করেছে। ডিগবাজি দেওয়ার ফলে বলটি ছাড়ার আগে তিনি বাড়তি গতিবেগ তৈরি করতে পারেন, যা থ্রো-ইনকে অস্বাভাবিক দূরত্বের সীমানায় পৌঁছে দেয়।

মোহাম্মাদীর মতে, নিজের ক্যারিয়ারে এই কৌশলের মাধ্যমে তিনি ১০টিরও বেশি গোল তৈরিতে সহায়তা করেছেন। রোববারের জয়ের পর স্পার্তাকের প্রধান কোচ রোমান বেরেজোভস্কিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ক্লাবটি এই থ্রো-ইনকে কেবল একটি দর্শনীয় কৌশল নয়, বরং একটি আসল কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে দেখে। অভিষেকের সময়ই মোহাম্মাদীর থ্রো-ইনের পরিসর দেখে স্পার্তাক এসকেএ-র  বিপক্ষে তাঁর এই থ্রো আক্রমণ করার জন্য পেনাল্টি বক্সের ভেতর খেলোয়াড়দের পজিশন দিয়েছিল।

আর সেই পরিকল্পনা দুর্দান্তভাবে কাজেও এসেছে। রাশিয়ায় আসার আগেই ইরানি ফুটবলে এই কৌশলের জন্য মোহাম্মাদী বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০২০ সালে পাইকানের হয়ে খেলার সময় তাঁর একটি থ্রো সরাসরি গোলের দিকে যায় এবং গোলরক্ষক আলিরেজা হাকিকি বলটিতে হাত স্পর্শ করার পর তা জালে জড়িয়ে যায়।

পার্সেপোলিসের বিরুদ্ধে নিজের অর্ধে থেকে করা তাঁর আরেকটি থ্রো অসামান্য দূরত্বের কারণে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। তাঁর এই খ্যাতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল যে, ২০২১ সালে ফৌলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল পাইকানের মুখোমুখি হওয়ার আগে তারা মাঠের আয়তন কমিয়ে দিয়েছিল, যাতে মোহাম্মাদীর লং-থ্রোর কার্যকারিতা হ্রাস পায়। ম্যাচ কমিশনারকে খেলা শুরু হওয়ার আগেই বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।

মোহাম্মাদী এখন ইরানের বাইরে প্রথমবারের মতো তাঁর এই ব্যতিক্রমী দক্ষতা নিয়ে এসেছেন—এবং রাশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীদের এটি বোঝাতে তাঁর মাত্র দুটি ম্যাচ লেগেছে যে, কেন স্পার্তাকের থ্রো-ইনকে খুব শীঘ্রই তাদের কোনো সেট-পিসের (যেমন কর্নার বা ফ্রি-কিক) মতো গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করতে হতে পারে।

 

 
 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত