৩১তম বিসিএস পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়াউল হক, সম্পাদক নাজিম উদ্দিন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ এএম

৩১তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘৩১তম বিসিএস পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন’-এর নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। 

বুধবার (১২ আগষ্ট) ৩১তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি ভোটে তারা নির্বাচিত হন। একই দিন বিকেল ৫টায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আপাতত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়ে এক বছর মেয়াদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও ঘোষণা করা হবে।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ৩১তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, পেশাগত কল্যাণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা মনে করছেন, নতুন কমিটি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পেশাগত সমস্যা ও কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩১তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাদের কল্যাণ এবং পদোন্নতিতে নতুন নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সদস্যরা আশা করছেন। একই সঙ্গে ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পুলিশ ক্যাডারে একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এ ধরনের সংগঠন সাধারণত ব্যাচভিত্তিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পেশাগত ও কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং ব্যাচের সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর ব্যাচের সদস্যদের প্রত্যাশাও রয়েছে।

মোহাম্মদ জিয়াউল হক এর আগে ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত ওই অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং তার ক্যাডার ছিল পুলিশ।

২০১২ সালে ৩১তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মকর্তারা সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে এই ব্যাচের কর্মকর্তারা প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর, শুল্ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণপূর্তসহ বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত রয়েছেন। ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আগের কমিটিতেও বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

তবে পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা সংগঠন হিসেবে ৩১তম বিসিএস পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্যাচটির পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বুধবারের নির্বাচনের পর এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। এক বছর মেয়াদি ওই কমিটিতে কারা বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেদিকেও আগ্রহ রয়েছে ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নেতৃত্বের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাচের সব কর্মকর্তাকে ঐক্যবদ্ধ রেখে পেশাগত কল্যাণ ও ন্যায্য দাবিদাওয়া নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা। বিশেষ করে পদোন্নতি, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সদস্যদের কল্যাণে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সংগঠনটিকে এগিয়ে নেওয়াই হবে নতুন নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব।

সরাসরি ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, তা এখন নির্ভর করবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং পরবর্তী এক বছরের কার্যক্রমের ওপর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত