নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে আমির হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
যুবক আমীর হোসেন নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতে সেখানে থেকে আজ সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অনেকেই ছাদ থেকে নামছিলেন।
এদিকে ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে আমিরের লুঙ্গি খুলে যায়। আমির নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়েন। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমীর হোসেনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমিরের বন্ধু আকরাম হোসেন বলেন, আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গেই কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে ওঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেরে ছাদে উঠেছিলাম। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমির পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজিম উদ্দীন বলেন, ট্রেনের ছাদ থেকে দুই বগির মাঝখানে পড়ে আমিরের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোন আপত্তি না থাকায় আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।