তালেবান শাসনের পাঁচ বছর, এখনও অধিকারবঞ্চিত আফগান নারীরা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাত ও অস্থিরতার পর কাবুলের অনেক বাসিন্দা রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা ফিরে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। 

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট দুই দশকের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের সময় তালেবান অভিযান চালিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর কাবুল বিমানবন্দর ও আশপাশে দেশ ছাড়তে চাওয়া হাজারো মানুষের ভিড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

ক্ষমতায় ফিরে তালেবান শুরুতে নারীদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ করে। নারীদের কর্মসংস্থান এবং পুরুষ অভিভাবক ছাড়া চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

জাতিসংঘ বলছে, তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে সংঘাত কমে স্থিতিশীলতা কিছুটা বেড়েছে। তবে নারীদের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত এবং সন্ত্রাসবাদের উদ্বেগ মোকাবিলা না করলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। সংস্থাটির মতে, নারী ও মেয়েদের ওপর এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনঃসম্পৃক্ততার পথে বড় বাধা।

জাতিসংঘের নারী অধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনও বলেছে, আফগান নারী ও মেয়েরা বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জনজীবন, বিচারব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে তাদের বঞ্চিত করার প্রবণতা গত এক বছরে আরও বেড়েছে।

তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোলভি হায়াতুল্লাহ মাহাজার ফারাহি দাবি করেছেন, গত পাঁচ বছরে সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত, মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায়, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে তিনি সরাসরি কোন মন্তব্য না করে তিনি বলেন,  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। 

আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছেন ফারাহি। তার দাবি, এসব 'শত্রুদের প্রচারণা', যার উদ্দেশ্য আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরা। 

তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়েও ফারাহি বলেন, তারা প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে রাশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফারাহির দাবি, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত তালেবান পূরণ করেছে; এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়ার পালা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত