মাদক নিয়ন্ত্রণ অভিযান

হিলিতে ৭ মাসে আটক ৪৫২

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হাকিমপুরের হিলিতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। শুধু মাদক বহনকারী বা সেবনকারী নয় এর নেপথ্যে থাকা সরবরাহকারী ও করবারিদের চিহ্নিত করতে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। ক্ষতিগ্রস্তরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবেই সেটিকে পাত্তা না দিয়ে এমন অভিযান যেন নিয়মিত হয় সেই দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাকিমপুর থানা সূত্রে জানা গেছে,গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ২৪২ জনকে আটক করে এবং মাদকসেবনের অপরাধে ২১০ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সর্বমোট মাদক সংশ্লিষ্টার দায়ে ৪৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে থানার পুলি।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, হাকিমপুর উপজেলা একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার বেশি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এর ধারাবাহিকতায় হাকিমপুর থানা পুলিশ যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে আমরা এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। মাদকের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই। পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাক সেটাই আমরা চাই।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, বর্তমান উপজেলা প্রশাসন ও থানার ওসি মাদকের বিরুদ্ধে যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে আমরা এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। তাদের এই কাজে আমরাও প্রশাসনকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছি। বর্তমানে হিলির মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেন, মাদকের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর তৎপরতা এলাকার যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মঙ্গল বয়ে আনছে। আগে আমাদের গ্রামগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবা ছিল। হাত বাড়ালেই সহজেই বিভিন্ন মাদক পাওয়া যেত। তবে পুলিশের কঠোর তৎপরতা ও অভিযানের কারণে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্বাবধানে ও সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপারের সহযোগীতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে হাকিমপুর থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

হিলি সীমান্তবর্তী এলাকার কারণে মাদকের সহজলভ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখে শুরু থেকেই কাজ করে আসছি জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্কুল কলেজে মাদকবিরোধী সেমিনার করা হচ্ছে। যদি কেউ মাদক কারবারিদের ছাড়করণে কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবির করেন তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগীতা করার আহ্বান জানিয়ে ওসি জাকির হোসেন জানান,  সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাকিমপুর থানা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এই কাজ করতে গিয়ে অনেকেই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। অভিযান থেকে সরে আসার চেষ্টা করছে তাদের সেই চেষ্টা সফল হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ্ বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধী। এটি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান সবসময় অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলবে। যেহেতু এই থানাটি সীমান্তবর্তী সে কারণে এই উপজেলাতে সহজেই মাদক পাওয়া যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থান মাদক নিয়ন্ত্রণকে পুলিশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারীদের আটক নয়, মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থার মূল হোতাদের শনাক্ত করাই এখন বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত