ক্রিকেটে ফিরতে পা কাটালেন তরুণ! 

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

মাঠের বাইশ গজে ফেরার তীব্র তাড়না মানুষের মনে কতটা জোর জোগাতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ২১ বছর বয়সী ইংলিশ ক্রিকেটার আইজ্যাক এলিস। গ্রেট ওয়ালথাম ক্রিকেট ক্লাবের এই তরুণ দীর্ঘ দিন ধরে জন্মগত এক মারাত্মক রক্তনালীর জটিলতায় ভুগতেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, খেলাধুলা তো বটেই, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই থমকে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পা কেটে ফেলার মতো বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অবাক করার বিষয় হলো, পা হারানোর মতো কষ্টকর এই সার্জারির জন্যই তিনি মুখিয়ে ছিলেন, কারণ তার একটাই লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে সুস্থ হয়ে আবার ক্রিকেটে ফেরা। অস্ত্রোপচারের চার মাস পর এলিস এখন এক সম্পূর্ণ নতুন জীবনের আনন্দ উপভোগ করছেন।

বিবিসি এসেক্সের 'আরাউন্ড দ্য উইকেটে' ভিক্টোরিয়া পলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আইজ্যাক এলিস সরাসরি জানান, ‘এটি চমৎকার একটি সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং সার্জারির পর থেকে আমার পায়ে খুব সামান্য বা প্রায় কোনো ব্যথাই ছিল না।’

মাত্র তিন বছর বয়স থেকে পায়ের আঙুলে এভিএম (আর্টারিওভেনাস ম্যালফরমেশন) নামক রক্তনালীর জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন এলিস। এই মারাত্মক রোগের কারণে রক্ত সরাসরি ধমনী থেকে শিরায় প্রবাহিত হতো, যা প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করত। তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণার কারণে গত শীতে তিনি কোনো ধরনের অনুশীলনও করতে পারেননি। তবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, এনএইচএস-এর সহায়তায় কৃত্রিম পা পাওয়ার পর তার মানসিক ও শারীরিক জীবনে এসেছে বিশাল পরিবর্তন।

বিবিসি এসেক্সের ওই অনুষ্ঠানে নিজের নতুন জীবন সম্পর্কে এলিস আরও যোগ করেন, ‘আমি বাইরে গিয়েছি, গল্ফ খেলেছি, লাঞ্চ করতে গিয়েছি এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। আগে যেমন রুমে বসে অজস্র ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে দিন কাটাতাম, এখন আর তা করতে হয় না। এটি আমাকে জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগ করে দিয়েছে।’ 

অবশ্য মাঠে পুরোদমে কামব্যাক করার পথ এখনো পুরোপুরি মসৃণ নয়। আরও উন্নত ও বিশেষায়িত একটি প্রোস্থেটিক (কৃত্রিম) অঙ্গ কেনার জন্য এলিসের প্রয়োজন ৮০ হাজার পাউন্ড, যার মধ্যে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করতে পেরেছেন। মাঠে ফেরার আকুলতা প্রকাশ করে এলিস আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি পা পাওয়ার চেষ্টা করছি যা দিয়ে মাঠে আরও ভালো পারফর্ম করা যায় এবং আবার খেলায় ফিরে যাওয়া যায়, যা সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর।’ সতীর্থদের ছাড়া মাঠের বাইরে বসে থাকার কষ্ট নিয়ে তিনি আরও জানান, ‘আমার মনে হয় আমি কিছু একটা মিস করছি, আর সেটা হলো অবশ্যই তাদের সঙ্গে ওই মাঠে থাকা। আমি এটার জন্য ভীষণভাবে অপেক্ষা করছি।’ 

তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক লড়াইয়ে বন্ধু, পরিবার এবং প্রতিপক্ষ ক্রিকেট ক্লাবগুলোও পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রেট ওয়ালথাম ক্রিকেট ক্লাব তার এই উন্নত কৃত্রিম পা সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। মাঠের বাইশ গজে ফেরার অদম্য জেদ নিয়ে আইজ্যাক এলিস এখন কেবল সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন।



×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত