কাল কিশোরগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২২ এএম

এই প্রথম কিশোরগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৬ আগষ্ট) তিনি কটিয়াদী থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন করবেন। 

ওইদিন কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশান মাঠে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশান মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন তিনি। তাছাড়া সরকারি মৎস্য হ্যাচারি এবং চারিপাড়া ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন।

রবিবার (১৬ আগষ্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলাজুড়ে চলছে দলীয় নেতাকর্মীদের আনন্দ-উদ্দীপনা। শহরে শহরে চলছে আনন্দ মিছিল।

দেশের মিঠা পানির মাছের অন্যতম বড় উৎস্য কিশোরগঞ্জ। আর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতেই রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি দুটি বৃহৎ মৎস্য হ্যাচারী। এর একটি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অবস্থিত সরকারি কার্প হ্যাচারী কমপ্লেক্স এবং অন্যটি ব্যক্তিমালিকানাধীন আচমিতা ইউনিয়নের চারিপাড়া ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং কমপ্লেক্স নামে পরিচিত। সরকারি কার্প হ্যাচারী কমপ্লেক্সটি ১৯৯৬ সনে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাছের গুনগত মান সম্পন্ন রেণু, পোনা ও ব্রুড মাছ উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা পুরণের পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরকারী রাজস্ব প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স কার্প জাতীয় মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় ও উচ্চ ফলনশীল মাছের মানসম্পন্ন রেণু, পোনা, ব্রুড মাছ এবং গলদা চিংড়ির পি.এল ও জুভেনাইল উৎপাদন করার পাশাপাশি চাহিদা মোতাবেক স্থানীয় মৎস্য চাষী/হ্যাচারি অপারেটরদের কারিগরী পরামর্শ ও বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংযোগ চাষী স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে অত্র অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রেখে চলেছে। 

সরকারি কার্প হ্যাচারী কমপ্লেক্সটির মোট আয়তন : ৯.৮ হেঃ, জলায়তন : ৪.৩৭ হেঃ, পুকুর রয়েছে ১৭ টি, গভীর নলকুপ : ০২ টি, ওভারহ্যাড ট্যাংক  ০১ টি (৩৩০০০ গ্যালন ধারণ ক্ষমতা), ইনকিউবেশন ফানেল : ১৮ টি, রেকট্যাংগুলার ট্যাংক (সিস্টার্ণ) : ১৩ টি, ব্রুড রিয়ারিং ট্যাংক : ০২ টি, সার্কুলার ট্যাংক : ০৪ টি, গলদা চিংড়ি হ্যাচারি : ০১ টি, প্রশিক্ষণ কক্ষ/হল রুম : ০১ টি।, প্রশিক্ষণ ডরমিটরি : ০১ টি। এটিকে আরো আধুনিকায়ন করলে দেশের মাছের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় রাজস্বতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। 

তাছাড়া ৯৪ সালে চারিপাড়া ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে মাছের ডিম থেকে রেনু পোনা উৎপাদন করে সারা দেশে মৎস্যচারীদের রেনু পোনা সরবরাহ করে মাছ চাষিদের সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। এতে এক দিকে বেকার যুব ও যুব মহিলাদের যেমন আত্ম কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে মাছের ঘাটতি পূরণেও গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। 

চারিপাড়া ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং কমপ্লেক্স এর ব্যবস্থাপক তপন কুমার চক্রবর্তী জানান, প্রতিষ্ঠা লগ্নে হালদা ও যমুনা নদী থেকে রেনু পোনা সংগ্রহ করে উন্নত মানের মা মাছ এবং সেই মা মাছ থেকে বাণিজ্যিক ভাবে রেনু পোনা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় তা সরবরাহ করেন। তাছাড়া চীন ও তাইওয়ান থেকে আমদানীকৃত হুয়াইট ফিস বা সাদা মাছ যেমন সিলভার কাপ, বিগ হেড, পাঙ্গাস, গ্রাসকাপ মাছের ডিম থেকে রেনু পোনা উৎপাদন করে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানেই মা মাছ থেকে ৪হাজার কেজি ডিম এবং তা থেকে রেনু পোনা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। 

এতে মৎস্য চাষীগণ সহজে রেনু পোনা সংগ্রহ করে মাছ চাষ করতে পারছেন। অত্র প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে একটি দীঘি, ১৬টি পুকুর। যেখানে মা মাছ, রেনু পোনা, রিয়ারিং এবং কালচার এই তিন প্রক্রিয়ায় মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। তাছাড়া হুয়াইট ফিসের পাশা পাশি কেট ফিস যেমন, শিং, টংরা, গোলসা, পাবদা মাছের রেনু পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ করে মাছের চাহিদা পূরণে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেলে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এছাড়াও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন পরে কিশোরগঞ্জ পরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামেলি কার্ড উদ্ভোধন করবেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত