জয়ের জন্য আর ৬ উইকেট চাই বাংলাদেশের

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

ডারউইনে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনটায় এসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লো অজি ব্যাটাররা। হাসান মাহমুদের আরও একবার দুর্দান্ত পেস প্রদর্শনীর পর স্মিথ-গ্রিনদের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার ছাপ রেখে দিনের খেলা শেষ করলো স্বাগতিকরা। ৫১ ওভারে ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া তুলেছে ১৬১ রান। এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে আছে তারা। 

৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের ওভারে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেছেন স্টিভ স্মিথ, তবে পিচে থিতু হয়েছেন অলরাউন্ডার ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন। ৮৬ বলে অপরাজিত আছে ৪৩ রানে, অ্যালেক্স ক্যারি অপরাজিত আছেন ১৯ রানে। 

এদিকে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকদের শুরুতেই আরও একবার পেস তোপে ভুগিয়েছেন হাসান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রানের খাতা না খোলা  জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করেন এই ডানহাতি পেসার। সেখানে থেকে মারনাস লাবুশেনকে নিয়ে কিছুটা চাপ সামলে এগোতে থাকলেও সেই হাসান-জুজুতেই ফের কাটা পড়েন ট্রাভিস। আগের ইনিংসের মতো এবারও আউট হন ইনসাইড এজড-এ বোল্ড হয়ে। টানা দুইবার এমন হতাশাজনক আউট হয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন হেড, নিজেই ঠিক করে যান স্টাম্পসের বেলগুলো, যা দেখে ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে গিলক্রিস্ট বলে ওঠেন, এমন কিছু কখনও দেখেননি তিনি। যেন সফরকারীদের দাপটে কি-করে উঠবে বুঝতে পারছে না অজিরা।

সেখান থেকে লাবুশেনের সঙ্গে ৩৬ আর গ্রিনের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়ে শুরুর সেই চাপ কিছুটা সামাল দেন স্মিথ। দলীয় ৭৩ রানের মাথায় তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন লাবুশেন (৩১), যা এই টেস্টে বাংলাদেশ দলে প্রথম স্পিনারদের উইকেট। মিরাজ নিয়েছেন দ্বিতীয়টা, স্মিথকে ফিরিয়ে।  

৩১তম ওভারে সাজঘরে ফিরতে পারতেন গ্রিনও। তাসকিনের ওভারের পঞ্চম বলটি ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে, যা দেখে নিশ্চিত উইকেটের উল্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বল স্টাম্পে আলতো ছোঁয়া দিয়ে গেলেও আশ্চর্যের বিষয় হলো বেল একটিও নিচে পড়েনি! সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিনের খেলার বাকি সময় পর্যন্ত পিচে টিকে ছিলেন গ্রিন। 

এর আগে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে মিরাজের ৬৫ ও টেল এন্ডে হাসান (১৪), তাইজুল (১৭) ও তাসকিন (১৪*) দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ১৩৮ ওভারে সবকটি হারিয়ে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ এবং অজিদের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাটিং করার রেকর্ড। তানজিদের ঐতিহাসিক ১০১ রানের ইনিংস ছাড়াও শান্তর ব্যাট থেকে প্রথম ইনিংসে এসেছে ৮৪ রান আর মুমিনুল করেন ৪৯ রান। 

এদিকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেস তোপে পুরোদস্তুর নাস্তানাবুদ ছিল অজিরা। হাসান-তাসকিন-এবাদত তিন পেসার মিলেই ১০ উইকেট তুলে স্বাগতিকদের থামান স্রেফ ১৯৮ রানে, যেখানেই একাই ৬ উইকেট তুলেছিলেন হাসান। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে):

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২, কেরি ১৯, গ্রিন ১৩, ওয়েবস্টার ১২; হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬/১০ (১৩৮ ওভার) (মুমিনুল ৪৯, তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, তাসকিন ১৪*; হ্যাজলউড ৬/৮৯, স্টার্ক ২/৭৯)।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস*: ১৬১/৪ (৫৩ ওভার) (ওয়েদারল্ড ০, হেড ১৭, লাবুশেন ৩১, স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, ক্যারি ১৯*; হাসান ২/৩৩, তাইজুল ১/২৮, মিরাজ ১/২০) 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত