কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষে এমপিসহ আহত ১০

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মী এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে গাড়িতে থাকা এমপি আমির হামজা মাথায় আঘাত পান। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সাতজন এবং গণঅধিকার পরিষদের তিনজন আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

আহতরা কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়ে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে এমপি আমির হামজার বাড়ির কাছে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা গতকাল বিকেলে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। এই সমাবেশ স্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে এলে গাড়ির ভেতর থেকে তার সমর্থকরা বিভিন্ন সেøাগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেই। দফায় দফায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে মাগরিবের নামাজ চলাকালে আমির হামজার বাড়ি থেকে তার সমর্থকরা বেসবল ব্যাটসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়।

পরে সংঘবদ্ধ হামজা সমর্থকরা সেখান থেকে মিছিল করে ছয়রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এই সংঘর্ষ ঘিরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা ছয় রাস্তার মোড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় আমির হামজার গাড়ি আসে এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায় এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে তিনিসহ গণঅধিকার পরিষদের তিনজন আহত হন বলে জানান তৌকির আহম্মেদ।

এ বিষয়ে এমপি মুফতি আমির হামজা বলেন, আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচিতে ছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে খবর পাই, আমার বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে। পরে সদর থানার ওসির গাড়ির পেছনে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে আমার গাড়িতে অতর্কিত লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়। এতে তিনিসহ জামায়াতের সাতজন কর্মী আহত হন বলে জানান আমির হামজা।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এমপির বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত