বরিশালের এই রাস্তায় পা দিলেই বিপদ! কেন এত আতঙ্ক?

প্রতিদিন খানাখন্দ আর কাদাপানিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লক্ষাধিক মানুষ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থমকে গেছে ৬ ইউনিয়নের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম সাতলা-ধামুড়া-সানুহার সড়ক। তবে গত কয়েক বছর ধরে সড়কটির চরম বেহাল দশার কারণে স্থানীয়দের চলাচলে নাভিশ্বাস উঠছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে এটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত সড়কটিতে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে শতশত শিক্ষার্থী মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। পুরো সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে এবং কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল, বাজার, ব্যাংক কিংবা থানায় জরুরি প্রয়োজনে যেতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

সড়কের এমন করুণ দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, নূরানি ও হাফেজি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মাদরাসা শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমা জানায়, মাদরাসায় যাওয়ার পথে যাতায়াতকারী গাড়ির চাকার ছিটিয়ে আসা কাদায় প্রায়ই পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের দৈনন্দিন চলাচলে চরম সমস্যা তৈরি করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ডালিম শিকদার আক্ষেপ করে বলেন, রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে এবং দিন দিন পরিস্থিতি কেবল খারাপের দিকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, অটোরিকশাচালক মো. সালাম জানান, সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে এখন আর আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না। ফলে আয়-রোজগার কমে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁদের খুব কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সানুহার-সাতলা সড়কের মোট ২৪ কিলোমিটার উন্নয়নকাজের জন্য গত অর্থবছরে তিনটি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ‘ইফতি ইটিসিএল’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ঠিকাদারের এই দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণেই মূলত সড়কটির আজকের এই জরাজীর্ণ ও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, ২৪ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বর্তমানে ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১৬ কিলোমিটার অংশের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সড়কের ওই অবশিষ্টাংশের জন্য নতুন করে আবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

তবে এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইফতি ইটিসিএল’-এর কর্ণধার মহিউদ্দীন মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, সড়কটির দূরবস্থার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন পুরো এলাকাবাসীর জন্য যেন এক গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনতিবিলম্বে এর পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করা না হলে স্থানীয়দের জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত