কারাগারে বন্দীদের মাদক সরবরাহ, ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়াসহ নানা অপরাধে জড়িত এক হাজার ২৭৬ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। গত দুই বছরে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরে সমসাময়িক ঘটনা ও কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি জানান, দুই বছরে ২১ জন কারারক্ষীকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত, ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৩০৩ জনকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। কোন ধরনের অপরাধের সঙ্গে কোন কারারক্ষীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিললেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কারাগারে মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়ে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত করতে পারছি না যে তারা (মন্ত্রী ও এমপিরা) মোবাইলে কথা বলছেন না। একইসঙ্গে এর সঙ্গে জড়িত যারা তাদেরকে ছাড় দিচ্ছি না।
গত এক বছরে প্রায় ৩ হাজার মোবাইল জব্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এখন এর প্রবণতা কমে এসেছে। এছাড়া অনেকেই আছেন যাদেরকে আমরা স্পেশাল জোনে রেখেছি, যেখানে জ্যামার রয়েছে। মোবাইল ফোন কারাগারে নিয়ে গেলেও জ্যামারের কারণে ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপিদের কারাগারে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের স্বজন ও আওয়ামী লীগের তরফে দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতনের কারণে কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর ২০২৫ সালে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, আর এবছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।
বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই বন্দিদের মধ্যে ১৭০ জন রয়েছেন, যাদের সাজা শেষ হয়ে গেছে; তারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। অ্যাম্বাসি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর যোগাযোগ চলছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, গত দুই বছরে বিদেশি প্রায় ১৭টি মৃতদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বিদেশিদের মরদেহ ৩ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে ৩টি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। যদি কোনো পরিবার বা বিদেশি প্রতিনিধি মরদেহ নিতে না আসে, তবে ডিএনএ সংরক্ষণ করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালে ২২৪৭ বন্দি কারাগার ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিল। এরমধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনও পলাতক। নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল ৮২৬ বন্দি। এরমধ্যে নরসিংদী কারাগারের ১৬৬ বন্দির ডাটা আমরা পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, কারাগার থেকে নয়জন জঙ্গি বন্দি পালিয়েছিল তার মধ্যে ৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি তিনজন পলাতক।
বগুড়া থেকে দুই কারারক্ষী বদলি
ভুয়া জামিননামায় আসামির জামিন, কারারক্ষী বরখাস্ত