মাকে ফোনে না পেয়ে ছুটে গিয়ে মিলল অর্ধগলিত লাশ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫২ এএম

ফেনীর পরশুরামে বসতঘরের দরজা ভেঙে জাহেদা আক্তার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুথুমা মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মরহুমার ছেলে আফজাল হোসেন হৃদয় ঢাকা এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। রিয়াদ বলেন, দুদিন ধরে ফোন দিলেও আম্মা কল রিসিভ না করায় চিন্তিত হয়ে পড়ি। পরে বাড়িতে এসে তাকে মৃত পাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহেদা আক্তার ওই এলাকার মোহাম্মদ আবদুল মতিনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে রিয়াদ চাকরি সুবাধে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাসের কারণে বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। গত শনিবার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে দেখতে বাড়িতে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, শনিবার রাতের কোনো একসময় তার মৃত্যু হতে পারে। এরপর প্রায় দুদিন তিনি ঘরের ভেতরেই পড়েছিলেন। আশপাশে প্রতিবেশীদের উপস্থিতি না থাকায় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। সোমবার ফেনীতে একজন চিকিৎসকের কাছে জাহেদা আক্তারের সন্ধ্যা ৬টার সিরিয়াল ছিল। কিন্তু তার আগেই তিনি মারা যান।

মরহুমার ছেলে হৃদয় জানান, গত রবিবার থেকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। বিকেল ৪টায় বাড়ি পৌঁছে দেখতে পাই ঘরের দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মায়ের নিথর দেহ দেখতে পাই। তার ধারণা, রাতের যেকোনো সময় ঘুমের মধ্যে মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবের প্রতিবাদ জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমার মা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঢাকা থেকে এসে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তার দাফনের ব্যবস্থা করেছি। মায়ের মৃত্যু নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি বা কোনো নেতিবাচক তথ্য ছড়াবেন না।’

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রায় দুদিন তাকে ঘরের বাইরে না দেখার কারণে ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ একজন বৃদ্ধা বাড়িতে একা থাকার পরও সঠিক সময়ে খোঁজখবর নেওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পারিবারিকভাবে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত