নকশাবহির্ভূত নির্মাণ

সিডিএ’র অভিযান, ৭ ভবন মালিককে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

নকশাবহির্ভূত ও অননুমোদিত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

অভিযানে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর ভবনসহ মোট সাতটি ভবনে অনিয়মের অভিযোগে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে সংস্থাটি। এছাড়া একাধিক ভবন সিলগালা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সিডিএ’র অথরাইজড জোন-২ এর আওতাধীন কোতোয়ালি ও চকবাজার থানা এলাকার লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এর আগে মঙ্গলবারও (১৮ আগস্ট) একই বিষয়ে আদালত পরিচালনা করা হয়। 

সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফেরাতে পৃথক দুটি জোন এলাকায় এই সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করেন সিডিএ’র বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন।

অভিযানে নকশার ব্যত্যয় ঘটানো, অনুমোদনবহির্ভূত অংশ নির্মাণ করা এবং ভবনের নিচতলায় পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানে দোকানপাট তৈরির মতো গুরুতর অনিয়ম চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের একপর্যায়ে চট্টেশ্বরী রোডে অবস্থিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের ‘হামদর্দ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত ছয়তলা ভবনটিতে যান বিচারিক দল। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির নকশায় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও নিচতলার নির্ধারিত পার্কিং স্পেস দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

পার্কিংয়ের জায়গায় এমন অনিয়মের দায়ে ভবন কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেস ফাঁকা করে দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদালতের মুখোমুখি হয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের সময় ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই আগুনে ভবনের মূল অনুমোদিত নকশাটি পুড়ে যায়। তবে পরিদর্শনের সময় তারা ভবনটি নির্মাণের দাপ্তরিক অনুমোদনপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন।

এছাড়া অভিযানে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাতটি ভবনের অনিয়ম বাবদ মোট ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি একটি অননুমোদিত ভবন সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে ভবন পরিচালনা ও অবশিষ্ট অনিয়ম সংশোধনের প্রতিশ্রুতিতে দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেয় আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১ এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ থানা এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। নকশার ব্যত্যয় ও অনিয়মের প্রমাণ মেলায় সে সময় তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবন মালিককে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিনই নগরীর বেবি সুপার মার্কেট এলাকার একটি সরকারি প্লট অবৈধভাবে দখল করে রাখা দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্লটটি মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের হাতে হস্তান্তর করে সিডিএ।

অভিযান পরিচালনাকালে সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান মোহাং মনজুর হাসান, অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন এবং সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. হামিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নগর উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার কথা জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ধরে আইন অমান্য করে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরীর বদলে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা না আসা পর্যন্ত আমাদের এই কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, সিডিএ’র অবস্থান এখানে জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণকাজ চালানো, নকশার স্পষ্ট ব্যত্যয় কিংবা অবৈধ ভবন তোলার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিতভাবে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত