সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান গাছ কাটা

বিএনপি-কৃষক লীগ নেতাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের স্থানীয় নেতাসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় ১৯২৭ সালের (২০০০ সালে সংশোধিত) বন আইনে মামলাটি দায়ের করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন।

মামলায় চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুরের শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার ও মিরাশি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ। এছাড়া মামলায় কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ মে পর্যন্ত চুনারুঘাটের পাইকপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা হয়। পরে কেটে নেওয়া এসব গাছ চুরি করে কেনাবেচা করা হয়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানায়, একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা, কাঠ চুরি ও চোরাই কাঠের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ২০ জনকে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মামলাটি করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করে আসছিলেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি নিজেকে প্রকৃতিপ্রেমী দাবি করে বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত