চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেছেন, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিচার কাজে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আইন অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এবং এ কে খান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ৮ম এ কে খান মেমোরিয়াল ল লেকচারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আজকের সেমিনারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মূল প্রবন্ধে বিচারকের সাহসিকতা, সততা ও নিরপেক্ষতার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, “বিচারক যদি সততা, সাহস ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে যেকোনো ধরনের প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব। আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটের পেছনে দুর্নীতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা, বিচারপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সততা, নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে হবে।”
'বাংলাদেশের বিচার বিভাগে আস্থার সংকট: উত্তরণের উপায়' শীর্ষক অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন গুম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে এ কে খান ফাউন্ডেশনের পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টি এ. এম. জিয়াউদ্দিন খান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস.এম. নছরুল কদির।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে আসতে পেরে গর্ববোধ হচ্ছে। আজকের সেমিনারের বিষয়টি বিচার ব্যবস্থার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিচারপ্রার্থী মানুষরা অনেক ক্ষেত্রে আস্থার সংকটে থাকেন, যে ন্যায় বিচার পাবেন কিনা। আজকের কি-নোট বক্তব্য থেকে বিচার ব্যবস্থায় আস্থা নিয়ে অনেক কিছু আলোকপাত করা হয়েছে। আশা করি, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানা হবে।”
কি-নোট স্পিকার তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট এবং বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তা উত্তরণের কার্যকরী উপায়সমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন চবি আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রকিবা নবী। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার।