চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। মেকং-লানচান অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এ ফল উৎসবে এবার দ্বিতীয়বারের মতো কো-অর্গানাইজার (সহ-আয়োজক) হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের ফল ও কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এবারের আয়োজনেও অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ধারাবাহিকতায় এ উৎসবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। কুনমিংয়ের টোংদে কুনমিং প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় বাংলাদেশের তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে এবং চীনা ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবে। মেকং-লানচান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ফল উৎপাদন ও রপ্তানি সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এ উৎসবে থাকবে বিভিন্ন দেশের ফল প্রদর্শনী, পণ্য বিক্রয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউনানের নির্দিষ্ট এলাকায় ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম সুবিধা, অফলাইন প্রদর্শনী স্থান, অনলাইন কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ এবং দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সুবিধার মতো বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব সুবিধা বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফল বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্য কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এটি কৃষি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।
মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু একটি প্রদর্শনীতে উপস্থিতি নয়; বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি, নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।