কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ এএম

মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। তাই এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে বিএআরসির গভর্নিং বডির ৬ষ্ঠ সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী এই গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। এতে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, প্রাকৃতিক বা জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছ নিরাপদ থাকবে। বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ খাতে উৎপাদন আরও বাড়াতে গবেষণার পরিধি ও কার্যক্রম বাড়াতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে যারা ভালো অবদান রাখছেন, সরকার তাদের পুরস্কৃত করছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক উৎসের মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে অভয়াশ্রম স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। মাটির পিএইচ  (অম্লত্ব) মাত্রাও উদ্বেগজনক।

বর্তমানে অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ এর মধ্যে রয়েছে। অথচ ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন। মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫ এর ওপরে উন্নীত করা গেলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত