মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ ঘিরে ফের অনিশ্চয়তা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ এএম

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার জোর দাবির মধ্যেই কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের মাত্র ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে (ঋডঈগঝ) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এ তালিকার ফলে অভিবাসন খাতে আবারও নতুন করে সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়া এবং অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রকাশিত তালিকা নিয়ে বায়রার সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বিগত দিনের সিন্ডিকেটের সদস্যরা এ ২৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত দাতো শ্রী আমিন ও রুহুল আমিন স্বপনও রয়েছেন এ সিন্ডিকেটে।

তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় অচলাবস্থার পর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গতি আসার কথা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আটকে রয়েছে। ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বিদেশি শ্রমিক নেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ে প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সেখানে যেতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের মধ্যে থেকে ৮ হাজার কর্মীকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে এ প্রক্রিয়ায় এখনো প্রায় ৫ হাজার কর্মী প্রবেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

শ্রমবাজার চালুর মূল ধাপ হিসেবে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণের বিভিন্ন শর্ত ও সার্বিক রূপরেখা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরই দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হতে চলায় তা নতুন করে নবায়ন ও হালনাগাদ করার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত উল্লেখ করে যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছিল মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব কঠিন শর্তের মধ্যে ছিল এজেন্সির নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা, গত তিন বছরে ন্যূনতম ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস এবং পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর এসব বাধ্যবাধকতা শিথিলের অনুরোধ জানিয়ে মালয়েশিয়াকে চিঠি পাঠায়। এরপর শর্ত কিছুটা শিথিল করে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪২৩টি এজেন্সির একটি তালিকা প্রস্তুত করে কুয়ালালামপুরে পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করল দেশটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত