মাছের উৎপাদন বাড়াতে  মানের সঙ্গে আপস নয়

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেন উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেন।

গবেষকদের উদ্দেশে মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিন নির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে আরও নজর দিতে হবে। মানুষ এখন নিরাপদ, সুন্দর ও মানসম্পন্ন খাদ্য চায়। খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মাটি, পানি, আলো-বাতাস ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মাটি ও পানি দূষণ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পানিতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব উপাদান কোথা থেকে আসছে মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড তা চিহ্নিত করতে সরকার গবেষণা শুরু করেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি নেই; তবে গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যদি কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ  প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা গেলে দেশের অর্থনীতিও স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান দুটি লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তৈরি করা।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

উল্লেখ্য, ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে -২০২৬’ -এ আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত