ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নীতিমালা শিগগিরই: তথ্য উপদেষ্টা

‘এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নিরসন করে একটি সুশৃঙ্খল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। কোথায় এই বাহনগুলো চলবে এবং এদের কারিগরি সক্ষমতা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হবে।’

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

রাজধানী ঢাকা ও সংলগ্ন এলাকার প্রধান সড়ক এবং মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল সুশৃঙ্খল করতে খুব দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে কোন এলাকায় কতটুকু ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে, যানবাহনের কারিগরি মান এবং চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল শুরু হয়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে কিছুটা সাময়িক সুবিধা হলেও শহরের সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায় নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অনভিজ্ঞ চালকদের প্রশিক্ষণহীনতা ও যাতায়াতের সঠিক নিয়ম না মানার কারণে বিভিন্ন প্রধান সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, এসব যানবাহনের কারিগরি নিরাপত্তা ও মান নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন,‘এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নিরসন করে একটি সুশৃঙ্খল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। কোথায় এই বাহনগুলো চলবে এবং এদের কারিগরি সক্ষমতা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হবে।’

একই সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীর জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে মৎস্য খাতের বিশিষ্ট ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পদকে ভূষিত করা হয়। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য এবং কৃষি খাতের এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি।

এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর কথা জানানো হয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে নতুন ৪৫৭ জন উপকারভোগীর মাঝে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে এ বছরের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, এই কর্মসূচির অর্থ সরাসরি প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে টাকা পৌঁছালে তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরাসরি অবদান রাখবে। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি পরিবারকেই পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত