বাগেরহাটে মাদক, ছুরি ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ১১

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য, ৫৫টি ধারালো ছুরি ও জাল টাকাসহ নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (২ৃ৬ আগস্ট) দিনভর জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে এলাকা ব্লকেড দিয়ে বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকা এবং সদর উপজেলার খানজাহান আলী মাজারের দীঘির পাড়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদক বিক্রেতা বলে দাবি করেছে।

অভিযানে ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪০ পুরিয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৫৫টি ধারালো ছুরি এবং এক হাজার টাকার ৯০টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

বুধবার বিকেলে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার বিষ্ণু রবি দাস (৩৫), পল্টু রবি দাস (৩৫), জয় রবি দাস (২৫), পলি (৪৫), কচুয়াপট্টির নিমাই সাহা (৪০), বাগেরহাট সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মো. রিফাত (২৪), একই উপজেলার সাবেকডাঙা গ্রামের সিরাজ (২০) ও খেগড়াঘাট গ্রামের বিপ্লব মিস্ত্রী (৩৬)।

জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রুহিতলাবুনিয়া গ্রামের মো. আকলাস ভূঁইয়া (৫৫), একই উপজেলার বুড়িখালী গ্রামের আশিকুর রহমান মোল্লা (২৩) এবং মো. শিবলু ফকির (২৪)।

পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, বাগেরহাট জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে শহরের নাগেরবাজার এলাকা ব্লকেড দিয়ে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় নাগেরবাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪০ পুরিয়া গাঁজা ও ৫৫টি ধারালো ছুরিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযানে এক হাজার টাকার ৯০টি জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক দুই অভিযানে একজন নারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুই মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ সময় জেলার বড় মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলায় এ ধরনের মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ। এর মধ্যে পৌনে দুইশ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, মাদকের সঙ্গে যে-ই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন, তিনি যেকোনো ব্যক্তি বা যেকোনো পর্যায়ের লোক হতে পারেন—কেউই ছাড় পাবেন না। এটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা। আইনের আওতায় তাকে আসতেই হবে, আজ অথবা কাল। বাগেরহাটে মাদকের ব্যবসা চললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানে রাজনৈতিক কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ বেশ কয়েকটি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি করেছে। এসব কর্মসূচিতে জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, মাদকের বিষয়ে তারা পুলিশের কাছে কোনো তদবির করবেন না। মাদকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নেতার কাছ থেকে তদবির পাননি বলেও জানান পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত