মহানবী (সা.) এর ভালোবাসায় মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজন ও ধর্মীয় কর্মসূচিতে মুখর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের বার্তায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। জুলুস, মিলাদ মাহফিল, সিরাত আলোচনা, নাতে রাসুল, কোরআন তিলাওয়াত, তবারক ও বই বিতরণসহ নানা আয়োজনে বুধবার (২৬ আগস্ট) ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। তাঁর মানবতা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের আদর্শ স্মরণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভিন্ন সংগঠন ও হল সংসদের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

দিনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামি’তে বাদ যোহর অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো.আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। অনুষ্ঠানে আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহা. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আলোচনা করেন।

উপাচার্য বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন গড়ে তুলতে পারলেই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি মহানবী (সা.)-এর সত্যবাদিতা, দয়া, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

বাদ আসর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বের হয় জুলুস। ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব সালাম আলাইকা’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। জুলুসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একই সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগেও কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ‘মাওলিদ মিছিল’ বের করা হয়। এটিও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ১৮টি হলে দোয়া, মিলাদ ও তবারক বিতরণ করা হয়। 

সন্ধ্যায় টিএসসির পায়রা চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘মাওলিদ-এ মুহাম্মদ (সা.)’। এতে কোরআন তিলাওয়াত করেন কারী মাহবুবুর রহমান। নাতে রাসুল পরিবেশন করেন কলরব শিল্পীগোষ্ঠী, দারুন্নাজাত শিল্পীগোষ্ঠী, শিল্পী মুস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকে।

অন্যদিকে, মধুর ক্যান্টিনের এশরাত মঞ্জিলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও প্রবাহ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় ‘খোয়াবে মদিনা-নবীজীর শানে নাতে রাসুল সন্ধ্যা’। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মিলাদ, নাতে রাসুল ও তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। সেখানে সমবেত কণ্ঠে দুরুদ ও নাত পরিবেশনে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা টিএসসির ডাচ চত্বরে আয়োজন করে ‘ইশকে মোস্তফা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। মিলাদ, নাতে রাসুল ও তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে তারা দিনটি পালন করে।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের উদ্যোগে হলের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘নাতে মোস্তফা’ অনুষ্ঠান। এতে মিলাদ ও নাত সন্ধ্যার পাশাপাশি হালুয়া-রুটি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. রাকিবুল হক।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল দাওয়াহ অ্যান্ড কালচারাল ক্লাব ও হল সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘সিরাত মাহফিল ও কুইজ প্রতিযোগিতা’। এতে আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আতর, টুপি ও তবারক বিতরণ এবং কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের মসজিদে বাদ আসর মিলাদ মাহফিল, কিয়াম ও তবারক বিতরণ করা হয়। হল সংসদ, এলাকাভিত্তিক সংগঠন ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় নাতে রাসুল ও সিরাত আলোচনা।

এবারের আয়োজনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ সার্কেল। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে সংগঠনটি ‘আমার নবীজি (সাঃ)’ শীর্ষক বই ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেয়। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, কার্জন হলসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইন বুথের মাধ্যমে এক হাজার কপি বই বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে দুরুদ ও নাতে রাসুলের সুরে সৃষ্টি হয় পবিত্র আবহ। নানা মত ও সংগঠনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনজুড়ে ফুটে ওঠে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এবারের ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত