আনোয়ারায় অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

চলতি বছরের অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আয়ু কমে গেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সড়কগুলোর। দীর্ঘ মেয়াদে মেরামত করা রাস্তা এক বছরের জলাবদ্ধতায় ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। উঠে গেছে পিচ ঢালাই রাস্তার উপরের পাথর কুচির প্রলেপ। বড় রাস্তাগুলোতে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে। 

এই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সড়কগুলো কাদাপানিতে একাকার। একটি-দুটি নয়, উপজেলার অধিকাংশ সড়কে এভাবে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানির নিচে তলিয়ে থাকা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তাও খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে এসব সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এরপর বিকল্প না থাকায় ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মানুষেরা।

এ উপজেলার সড়কগুলোর অবস্থা যে কত খারাপ, তা রিকশাচালক শওকত আলীর বক্তব্যেই ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘রাস্তার কথা কী আর বলব, বরুমচড়া হাজারী সড়কের যা অবস্থা ধানের চারা রোপন করলে হয়ে যাবে। পুরো সড়ক কর্দমাক্ত আর বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এ বাদে উপজেলার একটা রাস্তাও গাড়ি চালানোর মতো নেই।’

রাস্তা নিয়ে এই রিকশাচালকের মতো ক্ষোভ উপজেলার অধিকাংশ বাসিন্দার। ১৬৪ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলাটির অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। জোড়াতালি দিয়ে চললেও চলতি বর্ষায় অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে অনেক সড়কে রিকশা চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর একটু বৃষ্টিতেই সড়কগুলোতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বরুমচড়া, বটতলী, জুঁইদণ্ডী, দুধকুমড়া, পরুয়াপাড়া, পরৈকোড়া এলাকার কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে আছে। কোথাও প্যাচপেচে কাদা। আবার কোথাও পিচের রাস্তার ওপর দেওয়া হয়েছে ইটের সলিং। সেখানে হেলেদুলে চলছে ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন। কাদাপানিতে অনেক রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর। আবার অনেক রাস্তায় পানিতে না ভিজে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ নেই।

উপজেলার বটতলী ওয়াপদাপাড়ার ফেরদৌস হোসেন বলেন,একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। কয়েক দিন বৃষ্টি হলে তো হাঁটুপানি জমে রাস্তায়। পানি জমে থাকায় এখন রাস্তার পিচ–খোয়াও উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়,এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস। উপজেলায় এলজিইডির ২৫৮টি সড়ক আছে,এসব সড়কের দৈর্ঘ্য ৫৮৪ কিলোমিটার। মোট সড়কের ১২০ কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। তবে পয়োনিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো তথ্য নেই এই দপ্তরে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, এ উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৬৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। তারমধ্যে তিনটি সড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক তিনটি হচ্ছে-শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়ক, মালঘর বাজার-ছত্তারহাট সড়ক, আনোয়ারা-মুরালী ঘাট সড়ক। এসব সড়ক দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারে প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন।

আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় ১০টি সড়কের অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকায় উন্নয়নকাজ চলমান আছে। আরও ৫০ ভাগ রাস্তারই সংস্কার প্রয়োজন। ভাঙাচোরা রাস্তার জরিপ চালিয়ে সেগুলো নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।’

ভাঙাচোরা সড়কগুলো সংস্কার করার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, ‘সড়কগুলো দীর্ঘমেয়াদী মেরামত করার জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আর জরুরি ভিত্তিতে সড়কের কিছু কাজ করানো হবে। তবে বৃষ্টির কারণে সংস্কারকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। শিগগিরই সড়কগুলোর মেরামতকাজ শুরু করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত