বিলোনিয়া সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক, যা জানা গেল

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

ফেনীর পরশুরামের বিলোনিয়া সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান প্রতিরোধ, বিশেষ করে মাদক পাচার বন্ধ, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মজুমদারহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৬০/১ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিলোনিয়া আইসিপি এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান এবং ভারতের ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানি নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন। বিজিবির অধিনায়কের সঙ্গে পাঁচজন কর্মকর্তা ও ১৫ জন অন্যান্য পদমর্যাদার সদস্য এবং বিএসএফ কমান্ড্যান্টের সঙ্গে নয়জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তে হত্যা বা প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করে। সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধে উভয় বাহিনীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সীমান্তে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলে অধিনায়ক পর্যায়ে আলোচনা করে তা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত নিয়ম ও পারস্পরিক সমঝোতা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংঘাত বা মারামারিতে না জড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করবে বলে একে অপরকে আশ্বস্ত করেন।

বিজিবি-বিএসএফের এ ধরনের অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠক সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলোনিয়া সীমান্তেও ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিয়েছে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত